| বঙ্গাব্দ

আল্লামা বাবুনগরীকে উপদেষ্টা করার প্রস্তাব করেছিল জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ সাক্ষাৎকার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-02-2026 ইং
  • 3444716 বার পঠিত
আল্লামা বাবুনগরীকে উপদেষ্টা করার প্রস্তাব করেছিল জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ সাক্ষাৎকার
ছবির ক্যাপশন: আল্লামা বাবুনগরীকে উপদেষ্টা করার প্রস্তাব করেছিল জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ সাক্ষাৎকার


রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্মান: আল্লামা বাবুনগরীকে উপদেষ্টা করার প্রস্তাব এবং জামায়াতের নতুন সমীকরণ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে এই জনপদে দেওবন্দি ও অন্যান্য ইসলামি ঘরানার মধ্যে যে তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশে এসে তাতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশ করেছেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নাম প্রস্তাব করেছিল স্বয়ং জামায়াতে ইসলামী। এটি ১৯০০ সাল পরবর্তী ইসলামি রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল সৌজন্যের উদাহরণ।

১৯০০ - ২০২৬: ইসলামি ঘরানার দূরত্ব ও জামায়াতের ‘ব্রোডার’ পলিসি

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০০-এর দশকে ইসলামি শিক্ষা ও রাজনীতির প্রসারের সময় থেকেই বিভিন্ন ঘরানার মধ্যে আদর্শিক বিভাজন ছিল স্পষ্ট। পরবর্তী ১২৬ বছরে এই দূরত্ব অনেক সময় তিক্ততায় রূপ নিয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, আল্লামা বাবুনগরী অতীতে জামায়াতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও, জাতীয় স্বার্থে এবং ওলামায়ে কেরামদের ঐক্য বজায় রাখতে জামায়াত তাঁর নাম প্রস্তাব করে। এটি প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের ‘নতুন বাংলাদেশে’ জামায়াত সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একটি ‘ব্রোডার আমব্রেলা’ বা বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে আগ্রহী।

আল্লামা বাবুনগরী ও উপদেষ্টা পরিষদ: কেন হলো না?

সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ছাত্ররা যখন একজন যোগ্য আলেমকে উপদেষ্টা হিসেবে নেওয়ার জন্য জামায়াতের পরামর্শ চায়, তখন তারা ৯০ বছর বয়সী প্রবীণ আলেম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নাম প্রস্তাব করে। জামায়াতের এপেক্স বডি মনে করেছিল, তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানো ওলামা সমাজের প্রতিই সম্মান প্রদর্শন। তবে বয়স এবং শারীরিক প্রতিকূলতার কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই প্রস্তাব কার্যকর করতে পারেনি। পরবর্তী অল্টারনেটিভ নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে জামায়াত আর কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে ছাত্রদের সিদ্ধান্তের ওপরই আস্থা রাখে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ত্যাগী রাজনীতি

সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির চরমোনাই পীর সাহেবদের দল ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর প্রতিও তাঁদের সৌজন্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বরিশালের একটি আসনে মুফতি ফয়জুল হকের সম্মানে জামায়াত তাদের দীর্ঘদিনের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করে নেয়। ১৯০০ সালের সেই প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির বিপরীতে ২০২৬ সালের এই ‘প্রত্যাহার ও ত্যাগের রাজনীতি’ দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন নজির।

বিশ্লেষক দৃষ্টিতে ২০২৬-এর জামায়াত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য মূলত ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘জাতীয় ঐক্য’ বজায় রাখার একটি কৌশল। ১৯০০ সালের সেই ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে বেরিয়ে এসে ২০২৬ সালে এসে তারা যে ‘রেসপেক্ট এবং টলারেন্স’ বা সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে তারেক রহমান সরকারের আমলে যখন সবাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছে, তখন জামায়াতের এই নমনীয় অবস্থান রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ভূমিকা রাখবে।


সূত্র: ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ সাক্ষাৎকার (ফেব্রুয়ারি ২০২৬), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্যানেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency