| বঙ্গাব্দ

জামায়াতকে ছাত্রদলের সাধুবাদ: ১৯০০-২০২৬ রাজনীতির ঐতিহাসিক বাঁক বদল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-02-2026 ইং
  • 2001712 বার পঠিত
জামায়াতকে ছাত্রদলের সাধুবাদ: ১৯০০-২০২৬ রাজনীতির ঐতিহাসিক বাঁক বদল
ছবির ক্যাপশন: জামায়াতকে ছাত্রদলের সাধুবাদ

রাজনীতির নতুন রসায়ন: জামায়াতের শ্রদ্ধা নিবেদন ও ছাত্রদলের সাধুবাদ; ১৯০০-২০২৬ ঐতিহাসিক বিবর্তন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী উত্তাল সময় থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশ—বাঙালির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘পারস্পরিক ধিক্কার’ ছিল একটি সাধারণ রীতি। তবে ২০২৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের দেওয়া বক্তব্য সেই পুরনো প্রথা ভেঙে এক নতুন সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভাষা শহীদদের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধা নিবেদনকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি একে ‘পজিটিভ রাজনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

১. ১৯০০ - ২০২৬: আদর্শিক সংঘাত থেকে সংশোধনের পথে

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০০-এর দশকে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ধারার সৃষ্টি হচ্ছিল, তখন থেকেই আদর্শিক সংঘাত ছিল চরমে। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকার কারণে জাতিগতভাবে যে ধিক্কার ও নিন্দা বিদ্যমান, ছাত্রদল সভাপতি সেটি পুনর্ব্যক্ত করেও তাদের বর্তমান ‘সংশোধনী’ প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ১৯০০ সাল পরবর্তী ১২৬ বছরে এই প্রথম বড় কোনো ছাত্র সংগঠন জামায়াতের শহীদ মিনারে আসাকে ‘জাতীয় সংকটে বিরোধী অবস্থান’ থেকে সরে আসার লক্ষণ হিসেবে মূল্যায়ন করল।

২. রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপরই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে তারেক রহমান সরকারের ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ রাজনীতির প্রভাবেই আজ ছাত্রদল ও জামায়াতের মতো বিপরীতমুখী আদর্শের সংগঠনগুলো একই প্রাঙ্গণে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শ্রদ্ধা জানাতে সক্ষম হচ্ছে।

৩. ‘পালিত বিরোধী দল’ বনাম ‘সম্মানিত বিরোধী দল’

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বিগত সময়ের ‘পালিত বিরোধী দল’ প্রথার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের এই গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিরোধী দলগুলোও আজ সম্মানিত বোধ করছে। ১৯০০ সালের সেই রাজকীয় দমন-পীড়ন বা বিগত দশকের একপাক্ষিক রাজনীতির বদলে আজ ক্যাম্পাসে এবং জাতীয় পর্যায়ে যে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতি’র ডাক দেওয়া হয়েছে, তা শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার পথে এক বড় ধাপ।

৪. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাকিবুল ইসলাম রাকিব স্লিপ দিয়ে সড়কে টাকা তোলা বা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এটি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ‘চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ’ স্লোগানেরই এক প্রতিধ্বনি। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে ছাত্র নেতৃত্ব যে কেবল রাজনীতি নয়, বরং সামাজিক শুদ্ধি অভিযানেও সক্রিয়—এই বক্তব্য তারই প্রমাণ।


বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘অস্পৃশ্যতা’র সংস্কৃতি প্রবল ছিল। ছাত্রদল সভাপতির এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের এই নতুন প্রজন্ম অতীতকে মনে রেখেও ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য ‘সংশোধিত’ যে কাউকে সুযোগ দিতে প্রস্তুত। এটি মূলত একটি পরিণত গণতন্ত্রের লক্ষণ, যেখানে ধিক্কারের চেয়ে ‘পজিটিভ রাজনীতি’ অধিক গুরুত্ব পায়।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency