প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিলেট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রশাসনে ফিরছে গতি। এখন সবার নজর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের দিকে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের চার জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বইছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তোড়জোড়। প্রায় এক ডজন নেত্রী এই দৌড়ে শামিল হলেও শেষ পর্যন্ত কার কপালে জুটবে সংসদ সদস্যের তিলক, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সিলেট অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস ১৯০০ সালের শুরু থেকেই অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪৬-এর গণভোট এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারীদের অবদান অবিস্মরণীয়। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের ধারণা এবং এর গুরুত্ব আধুনিক সংসদীয় গণতন্ত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯০০ সালের সেই স্বাধীনচেতা সুরমা পাড়ের মানুষেরা এখন চাচ্ছে শিক্ষিত, মার্জিত ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক এমন কাউকে, যিনি জাতীয় সংসদে সিলেটের কণ্ঠস্বর হবেন। উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতার পর থেকেই সিলেট বিভাগের চার জেলা মিলিয়ে দুইজন সংরক্ষিত নারী এমপি হওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। এবারও সেই ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্র বিশেষ নজর দিচ্ছে।
সিলেটের সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দৌড়ে বর্তমানে বেশ কয়েকজনের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে:
শাম্মী আক্তার: দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি। হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে মাঠপর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা ও কেন্দ্রের সঙ্গে সুদৃঢ় যোগাযোগ তাকে রেসে এগিয়ে রাখছে।
ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী: প্রয়াত প্রভাবশালী রাজনীতিক হারিছ চৌধুরীর কন্যা। আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত এই আইনজীবী তার পারিবারিক ঐতিহ্য এবং মানবাধিকার ও সুশাসন বিষয়ে অভিজ্ঞতার কারণে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন।
সৈয়দা আদিবা হোসেন: সিলেট-৬ আসনের সাবেক জনপ্রিয় সংসদ সদস্য মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের কন্যা। শিক্ষা ও করপোরেট ক্ষেত্রে তার দক্ষতা এবং বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ অঞ্চলে তার জনহিতকর কাজ তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সাবিনা খান পপি: যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের কন্যা। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
খালেদা রব্বানী: মৌলভীবাজারের সাবেক এমপি ও প্রবীণ নেত্রী। দলীয় দুর্দিনে তার ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার কারণে তাকে সম্মানজনক অবস্থানে রাখার চিন্তা করছে হাইকমান্ড।
ফাহিমা কুমকুম: সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক। তৃণমূলের সংগঠক এবং অসহায় নারী-শিশুদের নিয়ে কাজ করার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের প্রিয় মুখ।
অন্যান্য প্রার্থী: অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ, সামিয়া বেগম চৌধুরী, হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, তাহসিন শারমিন তামান্না, জেবুন্নাহার সেলিম এবং সালমা নজির।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জি কে গউছ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর মতে, দল এখন বড় আকারে রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যস্ত। সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে পারিবারিক ঐতিহ্য, শিক্ষা, ত্যাগ এবং প্রবাস সংযোগ—এই চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে সিলেট-সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার জোন ভিত্তিক ভৌগোলিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করবে দলের হাইকমান্ড।
সূত্র: ১. সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি কার্যালয়ের তথ্য সেল। ২. জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকগুলোর বিশেষ প্রতিবেদন (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট ও সংরক্ষিত আসন সংক্রান্ত নীতিমালা। ৪. ১৯০০-২০২৬: সিলেটের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিবর্তন দলিল।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে সিলেটের নারীরা কেবল নামমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করতে চান। ব্যারিস্টার সামিরা বা আদিবা হোসেনের মতো নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের আগমনে সিলেটের সংরক্ষিত আসনগুলো কেবল দলীয় কোটা পূরণের নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। ১৯০০ সালের সেই পরাধীন সিলেট থেকে ২০২৬ সালের এই স্মার্ট ও সার্বভৌম বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বের এই বিকাশই হবে সার্থক গণতন্ত্রের উদাহরণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |