| বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রী হবো না’: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিস্ফোরক ঘোষণা ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-02-2026 ইং
  • 980202 বার পঠিত
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রী হবো না’: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিস্ফোরক ঘোষণা ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিস্ফোরক ঘোষণা ২০২৬

‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না’—কেরানীগঞ্জে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কোনো মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেবেন না। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

১৯০০ থেকে ২০২৬: পদের মোহ বনাম জনসেবার রাজনীতি

বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত ‘মন্ত্রিত্ব’ বা ‘ক্ষমতার পদ’ সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ১৯০০ সালের সেই শাসক-প্রজা মানসিকতা থেকে বেরিয়ে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের ‘নতুন বাংলাদেশে’ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই ঘোষণা এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়। ১৯০০ সালের সেই পদ-পদবির লড়াইয়ের বিপরীতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিজেকে কেবল ‘জনগণের প্রতিনিধি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

মন্ত্রিত্ব নয়, লড়বেন জনগণের জন্য

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সভায় স্পষ্ট করে বলেন, “আমি জানতাম আমি মন্ত্রী হবো না, তবুও শপথ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আপনারা বলছেন মন্ত্রী না করায় রাগ করে চলে আসছি—এটা সত্য না। আমি আপনাদের বলে গেলাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না”। তিনি আরও যোগ করেন যে, সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর প্রধান কাজ হলো মানুষের পক্ষে লড়াই করা এবং নিয়ম প্রতিষ্ঠা করা।

ভাইরাল সেই ভিডিও ও বঙ্গভবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে একটি বাগবিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি মুখ খোলেন। তিনি জানান, মন্ত্রিসভায় ডাক পেলে তিনি আগেই জানতে পারতেন। সিনিয়র নেতা হিসেবে তাঁকে সামনের সারিতে আসন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এক কর্মকর্তা না চিনে তাঁকে আসন ছাড়তে বলেন এবং এসএসএফ ডাকার হুমকি দেন। এই অসম্মানজনক পরিস্থিতির কারণেই তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছিলেন এবং ফেরার সময় তাঁর রাগ প্রকাশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ (একনজরে)

বিষয়গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের অবস্থান
মন্ত্রিত্বআমৃত্যু মন্ত্রিপরিষদে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা।
পরিচয়কেবল জনগণের প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্য হিসেবে থাকতে চান।
শপথ অনুষ্ঠানআসন নিয়ে কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনা ও হুমকির প্রতিবাদে প্রস্থান।
লক্ষ্য১৭ বছরের প্রশাসনিক জঞ্জাল দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

প্রশাসনের প্রতি বার্তা

কেরানীগঞ্জের মাদক, সন্ত্রাস, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও যানজট নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ শুনে এমপি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, “মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যকে খুশি করা প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, বরং আইনের শাসন ও জনসেবা নিশ্চিত করাই আপনাদের কাজ”।

সূত্র: ১. কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় সভার কার্যবিবরণী (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।

২. দৈনিক যুগান্তর ও আপন দেশ অনলাইন পোর্টালের প্রতিবেদন (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।

৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিবর্তন।


বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই অনমনীয় অবস্থান বিএনপির ভেতরের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। ১৯০০ সালের সেই পদলোভী রাজনীতির বিপরীতে এই ‘নতুন বাংলাদেশ’ কি সত্যিই এমন আদর্শিক নেতৃত্বের সুফল পাবে? মন্ত্রিত্বের মোহ ত্যাগ করে কেবল জনগণের জন্য লড়াই করার এই ঘোষণা আগামীর রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক হতে পারে

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency