নিজস্ব প্রতিবেদক (বিডিএস ডিজিটাল ডেস্ক) তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় আজ এক ঐতিহাসিক দিন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ এই মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এই বিশেষ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সাক্ষীরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে জুলাই বিপ্লবের সময় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে যে হত্যাকাণ্ড ও তথ্য গোপনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তার চাক্ষুষ বর্ণনা দেবেন।
মামলার সারসংক্ষেপ:
আসামি: শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ১০ জন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জন।
বর্তমান অবস্থা: ১০ জন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, বাকি ৭ জন এখনো পলাতক।
একই দিনে ট্রাইব্যুনালে আরও একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। র্যাবের টিএফআই (TFI) সেলে টানা ৮ বছর গুম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমকে আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করবেন। ইতিপূর্বে তিনি তাঁর ওপর চালানো মধ্যযুগীয় বর্বরতার যে লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছিলেন, আজ তা জেরা ও আইনি ব্যবচ্ছেদের মুখোমুখি হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
| আদালত | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। |
| প্রধান মামলা | ইন্টারনেট বন্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। |
| সাক্ষ্য প্রদান | সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে। |
| অন্যান্য শুনানি | ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের জেরা (গুম ও নির্যাতন মামলা)। |
বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক এনালাইসিস অনুযায়ী, এই বিচার প্রক্রিয়াটি চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে 'অ্যাসিড টেস্ট' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট বন্ধের মতো প্রযুক্তিগত অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় এনে বিচার করার বিষয়টি বিশ্ব রাজনীতিতেও নজিরবিহীন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ যদি ডিজিটাল অপরাধ ও মাঠ পর্যায়ের গণহত্যার যোগসূত্র প্রমাণ করতে পারে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অন্যদিকে, ব্যারিস্টার আরমানের জেরা থেকে 'গুমের সংস্কৃতি' ও আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা পরিচালনার নেপথ্য কুশীলবদের নাম বেরিয়ে আসার জোরালো সম্ভাবনা দেখছে মাঠ পর্যায়ের এনালাইসিস টিম।
বিডিএস ডিজিটাল ডেস্ক-এর মন্তব্য: ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে এই বিচার কেবল প্রতিশোধ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার বড় পদক্ষেপ। ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যই হবে এই বিচারের মূল শক্তি।
সূত্র: ১. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) ডায়েরি ও প্রসিকিউশন টিম।
২. বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মাঠ পর্যায়ের বিশেষ এনালাইসিস (হিমেল/নিউজ ডেস্ক)।
৩. ট্রাইব্যুনাল বিটের প্রতিবেদনসমূহ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |