বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) বৈশ্বিক রাজনীতির মঞ্চে মধ্যপ্রাচ্য বরাবরই পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯০৫ সালের পরবর্তী সময়ে যেখানে ব্রিটিশ ও রুশ সাম্রাজ্যের প্রভাব ছিল প্রবল, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় সেখানে চীন এক শক্তিশালী 'ব্যালেন্সিং ফ্যাক্টর' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার চতুর্থ দিনে বেইজিংয়ের দেওয়া বক্তব্য বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তাঁর ইসরাইলি প্রতিপক্ষ গিডিওন সার-এর সঙ্গে ফোনালাপে বেইজিংয়ের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। চীনের এই অবস্থানের মূল দিকগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
সামরিক হামলার বিরোধিতা: ওয়াং ই সরাসরি বলেছেন যে, চীন ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক হামলার ঘোর বিরোধী। বেইজিং মনে করে, শক্তি প্রয়োগ করে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে চীন একটি ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি: ওয়াং ই সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সামরিক অভিযান কেবল নতুন সমস্যা এবং ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বয়ে আনবে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছিল।
"দুর্ভাগ্যবশত, গুলির লড়াইয়ে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।" — ওয়াং ই
বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং মনে করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনার পথ রুদ্ধ করে সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নিয়েছে। চীন চায় অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে ‘আলোচনা ও পরামর্শের’ মাধ্যমে সংকট নিরসন করা হোক।
২০২৬ সালের এই সংকটে চীনের অবস্থান কেবল নৈতিক নয়, বরং এটি একটি গভীর কৌশলগত স্বার্থের প্রতিফলন।
জ্বালানি নিরাপত্তা: ইরানের তেল ও গ্যাস খাতের প্রধান আমদানিকারক হিসেবে চীন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এড়াতে চায়।
মার্কিন আধিপত্য মোকাবিলা: পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য কমাতে চীন ইরানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে।
রাশিয়া-চীন-ইরান অক্ষ: বর্তমান যুদ্ধে চীনের এই অবস্থান রাশিয়ার সাথে তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও রাজনৈতিক অক্ষকে আরও শক্তিশালী করবে।
১৯০০ সালের বিশ্বব্যবস্থায় যেখানে এশিয় শক্তিগুলোর কথা কেউ কানে নিত না, ২০২৬ সালের এই সংকটে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনকল ইসরাইলের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চাপ। বেইজিংয়ের এই স্পষ্ট বার্তা প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে চীন আর কেবল দর্শক নয়, বরং তারা একটি সক্রিয় নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে চায়।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি (৩ মার্চ ২০২৬) এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ সেল।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও বিশ্লেষণধর্মী আন্তর্জাতিক কন্টেন্ট পেতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |