বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের বাংলাদেশে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান নৈতিক দায়িত্ব হলো—বিগত দেড় দশকে গুম ও খুনের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো। ৮ মার্চ (২০২৬), আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আবেগঘন ও বলিষ্ঠ বক্তব্যে জানিয়েছেন, গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার খুব দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে দেশকে অস্থিতিশীল করার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ফৌজদারি অপরাধ। জুলাই পরবর্তী এই সময়ে যখন জাতি উন্নয়নের পথে হাঁটছে, তখন দেশের বাইরে থেকে কলকাঠি নেড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসনে অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। মন্ত্রী মির্জা ফখরুল গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের কষ্টকে নিজের মনে ধারণ করে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:
ভাতা ও আর্থিক সহায়তা: প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে গুম হওয়া পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ভাতা চালুর আবেদন করবেন তিনি।
শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ: নিহত বা নিখোঁজদের সন্তানদের শিক্ষিত করা এবং তাদের সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রপ্রধানদের ‘প্রথম দায়িত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
সামাজিক মর্যাদা: মন্ত্রী মনে করেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই পরিবর্তন, তাদের উত্তরাধিকারীরা যেন কখনোই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি না হয়—সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
মির্জা ফখরুল আক্ষেপের সাথে বলেন, শত শত মানুষকে গুম-খুন করার পরও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি। এটিই আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক ট্র্যাজেডি। তিনি বলেন, অনেকে রাজনৈতিক ক্ষমতায় বসলেও যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্বজনদের অবস্থা আজ মানবেতর। এই বৈষম্য নিরসনই এখন ২০২৬ সালের রাজনীতির প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত।
১৯০০ থেকে ২০২৬—বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বৈরাচারীদের পতন ঘটেছে বারবার, কিন্তু গুম হওয়া পরিবারের স্বজনদের হাহাকার কখনো মোছেনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই ঘোষণা কেবল একটি সরকারি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুম হওয়া পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি নিশ্চিত করা হলে, কেবল তখনই আমরা বলতে পারব যে জুলাই বিপ্লব পূর্ণতা পেয়েছে। এই পরিবারগুলোর জন্য ভাতা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত, যাতে তারা সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান (৮ মার্চ ২০২৬), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও পালস বাংলাদেশ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সেল।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও গভীর রাজনৈতিক ও মানবিক উন্নয়ন বিষয়ক বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |