নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৯ মার্চ, ২০২৬) রাজধানীতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমরা সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলব। সরকার কোনো জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ নিলে আমরা শুধু সমর্থন নয়, পূর্ণ সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি জনগণের অধিকার হরণ করা হয়, তবে আমরা চুপ থাকব না। প্রতিবাদে কাজ না হলে রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৬ সালের এই লড়াই মূলত সাধারণ মানুষের বিজয়ের লড়াই।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক দল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তাদের অবস্থান সংহত করতে শুরু করে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ভিন্ন ভিন্ন ছিল।
১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এ দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। তবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় দশক দলটি কঠোর দমন-পীড়ন ও আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পটপরিবর্তন এনেছে, তার ফলে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামী এখন সংসদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৯৫০ সালে যা ছিল কেবল একটি আদর্শিক আন্দোলন, ২০২৬ সালে তা ১৮ কোটি মানুষের ভোটাধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার এক বৃহৎ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "আমরা চেয়েছিলাম ১৮ কোটি মানুষের বিজয়, কিন্তু ভোটের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। আজ যারা মজলুম থেকে শাসক হয়ে ভিন্ন ভূমিকা পালন করছেন, তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন না। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ছেড়ে কথা বলে না।" তিনি ফ্যাসিবাদের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।
বিশ্বের বর্তমান অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "এই লড়াইয়ে কার্যত মুসলিম বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেখানেই মানবতা লঙ্ঘিত হবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদ জানাব—সেটি কোনো দেশ বা অঞ্চলের তা দেখার বিষয় নয়।"
ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাগপা সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
সূত্র: ১. জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ ও বিরোধীদলীয় নেতার সচিবালয় (১০ মার্চ ২০২৬)।
২. জাগপা ইফতার মাহফিল প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসের বিবর্তন (১৯৫০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |