নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল পরিস্থিতি আর লোহিত সাগরের অচলাবস্থা দেশের জ্বালানি খাতকে এক গভীর খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আসন্ন ঈদুল ফিতরের ঈদযাত্রায়। পণ্য ও যাত্রী পরিবহণ খাত এখন চূড়ান্ত হুমকির মুখে। পরিবহণ মালিকরা জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল ও অকটেন না পাওয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা ও এর আশপাশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্রাক ও বাসের লাইন ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে তেল পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন, তেলের বিকল্প নেই, কিন্তু বর্তমানে যা চলছে তা বড় ধরণের সংকট। সরকার আশ্বস্ত করলেও পাম্পগুলোতে তার কোনো প্রতিফলন নেই। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, অনেক চালক দীর্ঘ লাইনে ছিনতাই ও নিরাপত্তার অভাবে দূরপাল্লার ট্রিপে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
সংকট থেকে মুক্ত নয় নৌপথও। সুন্দরবন-১৫ লঞ্চের ম্যানেজার জানিয়েছেন, ঢাকা-পটুয়াখালী রাউন্ড ট্রিপের জন্য ৪,৪০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র ৩,৪০০ লিটার। এমনকি সরকারি সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি এবং বিআইডব্লিউটিএ-ও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছে না। সংস্থাগুলোর ২১ লাখ লিটার রিজার্ভ সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে মজুদ আছে মাত্র ৫ থেকে ৬ লাখ লিটার। এই সংকট অব্যাহত থাকলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি ও পরিবহণ খাতের বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিবহণ ব্যবস্থা ছিল মূলত নৌপথ এবং রেলনির্ভর। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সময় কয়লাচালিত ইঞ্জিনই ছিল যাতায়াতের প্রধান ভরসা। মধ্যপ্রাচ্যে ১৯৫০-এর দশকের ‘সুয়েজ সংকটের’ সময়ও এ অঞ্চলে জ্বালানির টান পড়েছিল।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর সড়ক পথের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে এবং জ্বালানি তেল হয়ে ওঠে অর্থনীতির চালিকাশক্তি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা হলেও ২০২৬ সালের বর্তমান ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ’ বিশ্ববাজারকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। ১৯৫০ সালে যা ছিল কয়লার সংকট, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে লোহিত সাগরের সরবরাহ লাইনের সংকটে। ১৯ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া দীর্ঘ ঈদ ছুটিতে দেশের কোটি মানুষের ঘরে ফেরা এখন এক অনিশ্চিত ভাগ্যের ওপর ঝুলছে।
বাজারের অধিকাংশ পণ্যই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে পরিবহণ করা হয়। জ্বালানি সংকটে ট্রাক মালিকরা রাস্তায় গাড়ি নামাতে না চাইলে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, ঘণ্টা পর ঘণ্টা সিরিয়াল দিয়েও তেল না পাওয়াটা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুত্র: ১. বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি ও লঞ্চ মালিক সমিতি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
২. বিআইডব্লিউটিএ ও বিপিসি (BPC) অভ্যন্তরীণ সরবরাহ রিপোর্ট (১০ মার্চ ২০২৬)।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও ঈদযাত্রার সংকটকাল (১৯৫০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |