| বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটে সার কারখানা বন্ধ; বিপাকে কৃষি খাত ও অর্থনীতি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-03-2026 ইং
  • 1710299 বার পঠিত
গ্যাস সংকটে সার কারখানা বন্ধ; বিপাকে কৃষি খাত ও অর্থনীতি
ছবির ক্যাপশন: গ্যাস সংকটে সার কারখানা বন্ধ

যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব: সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, কৃষি উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় অর্থনীতিবিদরা

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ ২০২৬ সালের ১১ মার্চ (বুধবার) বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা ও জ্বালানি সংকটের জেরে দেশের প্রধান সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের আসন্ন কৃষি মৌসুম এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. লক্ষ্যমাত্রা: বিকল্প উৎস ও সংকট মোকাবিলা বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সামনে প্রধান কিছু চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য রয়েছে:

  • সার আমদানি বাড়ানো: দেশীয় উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ থেকে সার আমদানির জন্য নতুন ঋণপত্র (LC) খোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

  • বিসিআইসি-র পদক্ষেপ: বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) চেষ্টা করছে মজুত থাকা সার দিয়ে আগামী দুই মাস সামাল দিতে।

  • চাষিদের সুরক্ষা: সারের দাম যেন প্রান্তিক কৃষকের নাগালের বাইরে না যায়, সে লক্ষ্যে ভর্তুকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

২. বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি (LNG) এর আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে বিশ্লেষকদের মত:

  • উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি: কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাল, ডাল ও সবজির উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি: সারের অভাব ও দাম বৃদ্ধি সরাসরি খাদ্যদ্রব্যের ওপর প্রভাব ফেলবে, যা ২০২৬ সালের মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।

  • শিল্প বনাম কৃষি: বর্তমানে গ্যাস কেবল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আবাসিক খাতে অগ্রাধিকার পাওয়ায় শিল্প ও কৃষি খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

৩. দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা অর্থনীতিবিদদের মতে, সার কারখানায় গ্যাস বন্ধ রাখা কেবল একটি সাময়িক সিদ্ধান্ত নয়; এটি আগামী বছরের খাদ্য মজুতের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ: যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট এখন আমাদের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা মানে হলো সরাসরি খাদ্য উৎপাদনের পায়ে কুড়াল মারা। বড় চ্যালেঞ্জ হবে আমদানির মাধ্যমে সারের ঘাটতি মেটানো, তবে ডলার সংকটের এই সময়ে সেটি কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। সরকারকে দ্রুত বিকল্প জ্বালানি বা দীর্ঘমেয়াদী আমদানির চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তথ্যসূত্র: বিসিআইসি কন্ট্রোল রুম (১১ মার্চ ২০২৬), কৃষি মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলা। দেশের কৃষি ও অর্থনীতি নিয়ে সচেতন থাকতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency