বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন। এই অধিবেশন ঘিরেই এখন সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টি নিবদ্ধ। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিশাল রাজস্ব ঘাটতির মাঝে ঝুলে আছে বহুল আলোচিত ‘নতুন পে স্কেল’ বা নবম বেতনকাঠামো। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে এটি স্পষ্ট যে, সরকার এখন ‘বাস্তবতা বনাম প্রতিশ্রুতি’র এক কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে:
রাজস্ব ঘাটতি: অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়েই রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকা সরকারের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশের ডলার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মূল্যস্ফীতি: উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও, বাজারে অর্থপ্রবাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
নবম পে স্কেলের সুপারিশমালা ইতোমধ্যে সরকারের হাতে এসেছে। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে জানিয়েছেন যে, মোট বাজেটের কতটুকু অংশ বেতন-ভাতায় বরাদ্দ করা সম্ভব তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া চূড়ান্ত করা যাবে না।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সরকার পে স্কেল থেকে সরে না এলেও, এটি একবারে কার্যকর না করে কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করতে পারে।
রিভিউ ঘোষণা: অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সুপারিশমালা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বাজেট প্রণয়নের আগে রিভিউ করা হবে।
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেছেন, সেটিকে তিনি ‘বাস্তবসম্মত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে এটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আর্থিক সক্ষমতার সমন্বয় জরুরি। জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে, তা সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই একটি চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে।
আগামীকালকের সংসদ অধিবেশনে পে স্কেল নিয়ে আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তাই সরকার এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না যা তৃণমূল পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এর প্রতিফলন কতটুকু থাকবে, তা নির্ভর করছে রাজস্ব আদায়ের গতির ওপর।
নতুন সরকারের জন্য প্রথম বাজেট অধিবেশনের আগে এই পে স্কেলটি একটি বড় ‘এসিড টেস্ট’। একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন, অন্যদিকে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্ভবত ‘মধ্যমপন্থা’ বেছে নেবেন—অর্থাৎ বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে সেটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে, যাতে অর্থনীতির ওপর এককালীন চাপ সৃষ্টি না হয়। ১২ মার্চের অধিবেশন থেকেই আমরা এর একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ পাব বলে আশা করা যায়।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |