নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরোধী দল কেবল রাজপথের আন্দোলনের জন্য নয়, বরং জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ, ২০২৬) রাজধানীর মিরপুরে স্থানীয় দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার ও ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "বিরোধী দল যে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে, সেই উদাহরণ আমরা তৈরি করব ইনশাআল্লাহ। তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, দেশের ঘাড়ে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ চাপিয়ে দেওয়া আমরা মেনে নেব না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চব্বিশের বিপ্লবের পর গঠিত এই নতুন বাংলাদেশে জনগণের সার্বভৌমত্বই হবে শেষ কথা।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, "অতীতে বাংলাদেশের মানুষের জন্য চীনের দেওয়া অনেক উপহার ও সহযোগিতা হাইজ্যাক করা হয়েছিল। আমরা প্রত্যাশা করি, চীন সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের পাশে আরও জোরালোভাবে দাঁড়াবে।" দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, "তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং দেশের মানুষের প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামী যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।"
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিরোধী দল ছিল মূলত অধিকার আদায়ের সংগ্রামের অগ্রসেনানী। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সময়ও বিরোধী মতের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চলত। ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলকে কেবল নেতিবাচক সমালোচনা বা বয়কটের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশের’ প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের এই সংসদীয় রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৫০ সালে যা ছিল স্রেফ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে সেবামূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের নতুন মডেলে। জামায়াত আমিরের এই মানবিক কার্যক্রম সেই ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা ইতিবাচক বিরোধী দলেরই প্রতিফলন।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির প্রেস বিজ্ঞপ্তি (১৭ মার্চ ২০২৬)।
২. বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয় ও মিরপুর এলাকার স্থানীয় সংবাদ প্রতিনিধি।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতি ও বিরোধী দলের বিবর্তন (১৯৫০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |