| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মামলার ইতিহাস ও শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের অব্যাহতি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-03-2026 ইং
  • 1506140 বার পঠিত
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মামলার ইতিহাস ও শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের অব্যাহতি
ছবির ক্যাপশন: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক মামলা এবং আইনি বিবর্তনের এক শতাব্দী

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা, ২০ মার্চ ২০২৬: বাঙালির রাজনৈতিক ও আইনি ইতিহাসের পথচলা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমলের 'রাজদ্রোহ' আইন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের আধুনিক বিচারিক প্রক্রিয়া—এই দীর্ঘ ১২৬ বছরে বাংলাদেশের আদালত কক্ষগুলো অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে।

সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিশু জিহাদ (১১) ‘হত্যা’ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনকে আদালত অব্যাহতি দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এই আদেশ দেন। এই ঘটনাটি ২০২৬ সালের আইনি অঙ্গনে এক চাঞ্চল্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা আইনি মারপ্যাঁচের ইতিহাসকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমল ও রাজনৈতিক মামলার সূচনা

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের দমনে অসংখ্য 'মিথ্যা' বা 'তথ্যগত ভুল' সংবলিত মামলা দায়ের করা হতো। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে ক্ষুদিরাম বসু থেকে শুরু করে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পর্যন্ত সবার বিরুদ্ধেই তৎকালীন শাসকরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিল। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের সময়কাল থেকে ১৯৪৭-এর দেশভাগ পর্যন্ত আইনি লড়াই ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

১৯৪৮-১৯৭১: পাকিস্তান আমল ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা

পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে কণ্ঠরোধ করার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল ১৯৬৮ সালের 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা'। শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা সেই মামলাটি ছিল মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তবে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগ পাওয়ার যে স্বপ্ন বাঙালি দেখেছিল, ২০২৬ সালে এসে তার এক নতুন রূপ পরিদৃষ্ট হচ্ছে।

২০২৪-২০২৬: গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বিচারিক স্বচ্ছতা ও জিহাদ মামলা

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান বিচার বিভাগ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি মামলা যাচাই করছে। কেরানীগঞ্জের শিশু জিহাদ ‘হত্যা’ মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী আসলে জীবিত এবং কেবল জখমপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ‘আর্থিক ও বাসস্থানের লোভে’ পড়ে মামলাটিতে জিহাদকে মৃত দেখানো হয়েছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বদিয়ার রহমান গত বছরের ১১ আগস্ট চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন, যেখানে ‘তথ্যগত ভুল’ প্রমাণিত হওয়ায় শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। ২০২৬ সালের ২০ মার্চ আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আবদুল নূর নিশ্চিত করেন যে, আদালত এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতি দিয়েছেন।

গুগল এনালাইসিস এবং ট্রেন্ডস ডেটা (২০২৬) অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের প্রধান আগ্রহের বিষয় হচ্ছে—সুশাসন এবং নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক রায় প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তথ্যের সঠিকতা ছাড়া বিচার বিভাগ কাউকেই শাস্তি প্রদানে আগ্রহী নয়।

২০২৬-এর আইনি বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের পথ

১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক আইন থেকে ২০২৬ সালের এই স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া—এই রূপান্তরটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় মাইলফলক। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বক্তব্যের রেশ ধরে বলা যায়, দেশে এখন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাকে 'মৃত' দেখিয়ে মামলা করা যে আইনি অপরাধ, ২০২৬ সালের এই রায় সেটিই জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।


বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের আইনি প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় অনেক সময় আবেগ বা ব্যক্তিগত লাভের আশায় ভুল মামলা করা হয়। তবে ২০২৬ সালের এই মামলার ফলাফল নির্দেশ করে যে, বর্তমান বিচার বিভাগ এবং পুলিশ প্রশাসন তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ। ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের এই অব্যাহতি বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ 'তথ্যগত ভুল' সংশোধন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সূত্র: ঢাকার সিজেএম আদালত আর্কাইভ, যুগান্তর আর্কাইভ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং ২০২৬ সালের গুগল রিয়েল-টাইম লিগ্যাল অ্যানালাইসিস রিপোর্ট।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency