| বঙ্গাব্দ

শোলাকিয়ায় রেকর্ড ৬ লাখ মুসল্লির ঈদ জামাত ২০২৬: ১৯৯তম ঐতিহাসিক আয়োজন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-03-2026 ইং
  • 569245 বার পঠিত
শোলাকিয়ায় রেকর্ড ৬ লাখ মুসল্লির ঈদ জামাত ২০২৬: ১৯৯তম ঐতিহাসিক আয়োজন
ছবির ক্যাপশন: শোলাকিয়ায় রেকর্ড

শোলাকিয়ায় জনসমুদ্র: ১৯৯তম জামাতে ৬ লাখ মুসল্লির রেকর্ড ও বিশ্বশান্তির ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

কিশোরগঞ্জ: নরসুন্দা নদীর কলতান আর ভোরের কুয়াশাভেজা সকালে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আজ রূপ নিয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে। আজ শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) অনুষ্ঠিত হলো উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই ঈদগাহের ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। এবারের জামাতে প্রায় ৬ লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণ এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, যা স্মরণকালের মধ্যে সর্ববৃহৎ বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

১৯০০ থেকে ২০২৬: ঐতিহ্য ও বিবর্তনের পথচ্ছবি

শোলাকিয়ার এই বিশাল জামাতের ইতিহাস কেবল একটি ধর্মীয় জমায়েত নয়, বরং এটি বাঙালির ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে যখন এই অঞ্চলে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধছিল, তখনও শোলাকিয়া ছিল সাধারণ মানুষের মিলনমেলা। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক বাঁকবদলে শোলাকিয়ার মুসল্লিরা সবসময় ন্যায়ের পক্ষে থেকেছেন। ২০২৫ সালের রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পর ২০২৬ সালের এই প্রথম ঈদে শোলাকিয়ায় মুসল্লিদের এই নজিরবিহীন উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি এখন আগের চেয়েও সুদৃঢ়।

জনসমুদ্রে পরিণত শোলাকিয়া

সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা মানুষের ঢলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মূল ময়দান। জায়গা না পেয়ে হাজার হাজার মুসল্লি আশপাশের সড়ক, বাড়ির ছাদ এবং নরসুন্দা নদীর তীরে কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করেন। অনেকে আগের রাত থেকেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছিলেন এই পুণ্যময় জামাতে শরিক হতে।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, "এবারের উপস্থিতি ছিল নজিরবিহীন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে মুসল্লিরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরেছেন।"

ফিলিস্তিন ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য মোনাজাত

নামাজ শেষে মোনাজাতে বিশেষ গুরুত্ব পায় বিশ্ব পরিস্থিতি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনের মজলুম মুসলমানদের রক্ষায় আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ২০২৬ সালের নতুন রাজনৈতিক যাত্রায় দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি ছাইফুল্লাহ।

ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতীক

শোলাকিয়ার এই জামাত কেবল কিশোরগঞ্জবাসীর নয়, বরং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য উদাহরণ। কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা তীরের এই মিলনমেলা যেন শুধু নামাজ নয়, হয়ে উঠেছে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য আর বিশ্বাসের এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক।

সূত্র: জেলা প্রশাসন কিশোরগঞ্জ, শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি, যুগান্তর এবং আঞ্চলিক সংবাদ আর্কাইভ।

বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শোলাকিয়ার গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধের মাঝে ৬ লাখ মানুষের এই সুশৃঙ্খল জমায়েত বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় সহনশীলতা ও ঐক্যের বার্তা বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিচ্ছে। প্রশাসনের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশের এক ইতিবাচক চিত্র।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency