| বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার তেল কেনায় মার্কিন ছাড় শেষ | বড় ঝুঁকিতে ভারতের জ্বালানি খাত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-04-2026 ইং
  • 29696 বার পঠিত
রাশিয়ার তেল কেনায় মার্কিন ছাড় শেষ | বড় ঝুঁকিতে ভারতের জ্বালানি খাত
ছবির ক্যাপশন: রাশিয়ার তেল কেনায় মার্কিন ছাড় শেষ

রাশিয়ার তেল কেনায় মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ বাড়াচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন: চরম সংকটে ভারত

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

রাশিয়া ও ইরানের তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশকে দেওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়াবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে ভারতের জ্বালানি খাত এক বিশাল অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

১. ছাড়ের মেয়াদ ও মার্কিন কঠোর অবস্থান

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাশিয়ান এবং ইরানি তেলের ওপর দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স বা বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আর নবায়ন করা হবে না। উল্লেখ্য, রাশিয়ার তেল কেনার মেয়াদের সীমা ছিল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ইরানের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৯ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে।

২. বিপাকে ভারত: অর্ডার করা ৩ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগে ভারত ইতিমধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেল আমদানির কার্যাদেশ (অর্ডার) দিয়ে রেখেছে। ভারতের বৃহৎ তেল শোধনকারী প্রতিষ্ঠান যেমন রিলায়েন্স, রাশিয়ার সরবরাহকারী রসনেফট ও লুকওইলের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সমুদ্রপথে থাকা বা অর্ডার করা এই তেলের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

৩. হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা ও বিকল্প পথ

হরমুজ প্রণালির আশেপাশে চলমান যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাচ্ছিল দিল্লি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি ফিরে আসায় ভারতের জন্য সস্তায় জ্বালানি আমদানির পথটি কার্যত রুদ্ধ হয়ে গেল। এতে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. কেন এই কঠোরতা?

ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই ইরান ও রাশিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরান ও মস্কোর অর্থপ্রবাহ বন্ধ করতে রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে চাইছে ওয়াশিংটন।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশের জন্য সস্তা জ্বালানি অপরিহার্য। কিন্তু মার্কিন এই অনমনীয় অবস্থান ভারতকে বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে বাধ্য করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


এক নজরে জ্বালানি তেলের বর্তমান সংকট:

সূচকপরিসংখ্যান/তথ্য
রাশিয়ার তেল কেনার শেষ সময়১১ এপ্রিল ২০২৬ (মেয়াদ উত্তীর্ণ)।
ইরানের তেল কেনার শেষ সময়১৯ এপ্রিল ২০২৬।
ভারতের বর্তমান অর্ডার৩ কোটি ব্যারেল (রাশিয়া থেকে)।
প্রধান সরবরাহকারীরসনেফট, লুকঅয়েল (রাশিয়া)।

তথ্যসূত্র (Source):

  • এনডিটিভি (NDTV): ১৬ এপ্রিল ২০২৬-এর বিশেষ প্রতিবেদন।

  • ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট: স্কট বেসেন্টের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি।

  • রয়টার্স: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও রাশিয়ার তেল সরবরাহ সংক্রান্ত রিপোর্ট।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency