আন্তর্জাতিক ডেস্ক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২০ এপ্রিল ২০২৬
সূত্র: আলজাজিরা ও রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন আলাপে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই আলোচনায় উভয় দেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
ফোনালাপের শুরুতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে। রাশিয়া শুরু থেকেই এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
এই ফোনালাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত ইরানের নিশ্চয়তা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে রাশিয়ার সকল জাহাজ এবং পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।
কৌশলগত অবস্থান: আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে উত্তেজনার জেরে ইরান বারবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলেও রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই এই নৌপথ ব্যবহার করতে পারে, ইরান সেই বিশেষ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার এই ফোনালাপ মূলত ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত হওয়া তাদের 'কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি'রই একটি প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের ওপর নৌ-অবরোধারোপ করার চেষ্টা করছে, তখন রাশিয়ার এই সম্পৃক্ততা ইরানের জন্য বড় ধরনের নৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন হিসেবে কাজ করবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী। ইরানের এই নিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতি ইরানের এই নমনীয়তা স্পষ্ট করে দেয় যে, পশ্চিমা চাপের মুখে তেহরান তার পুরনো বন্ধুদের সাথে সর্ম্পক আরও সুদৃঢ় করছে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): লাভরভ ও আরাগচির এই আলাপ কেবল প্রথাগত সৌজন্য নয়; এটি মূলত পশ্চিমাদের কাছে একটি কড়া বার্তা। হরমুজ প্রণালিকে ইরান যখন তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে দাবি করছে, তখন রাশিয়াকে সেখানে অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া মানে হলো—এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে রাশিয়াকে একটি বিশেষ স্থান দেওয়া। এটি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
মূল আলোচ্য বিষয়: হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি।
রাশিয়ার অবস্থান: দ্রুত সংঘাত নিরসন ও কূটনৈতিক সমাধান।
ইরানের প্রতিশ্রুতি: রুশ পণ্যবাহী জাহাজের জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন নৌপথ।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |