| বঙ্গাব্দ

রূপপুরে শুরু হচ্ছে পরমাণু জ্বালানি লোডিং: নতুন এক যুগে বাংলাদেশ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-04-2026 ইং
  • 19160 বার পঠিত
রূপপুরে শুরু হচ্ছে পরমাণু জ্বালানি লোডিং: নতুন এক যুগে বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশন: রূপপুরে শুরু হচ্ছে পরমাণু জ্বালানি

পরমাণু যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার

প্রতিবেদক: [BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বিভাগ: জাতীয় / জ্বালানি ও বিদ্যুৎ

উৎস: (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র)

এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিশ্বমানের জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে পা রাখছে বাংলাদেশ। সব প্রস্তুতি শেষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে শুরু হতে যাচ্ছে পরমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম।

১. বাধা পেরিয়ে ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ

করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গত ১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের কারিগরি লাইসেন্স পাওয়ার পর চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কারিগরি শর্ত পূরণের পর এখন প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বাংলাদেশ।

২. কারা থাকছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা ও সময় স্বল্পতার কারণে এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সশরীরে প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

৩. বিদ্যুৎ কবে মিলবে গ্রিডে?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন:

  • সময়সীমা: প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে।

  • প্রাথমিক উৎপাদন: জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

  • পূর্ণ উৎপাদন: চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় (১২০০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

৪. কারিগরি সক্ষমতা ও নিরাপত্তা

এই প্রকল্পে মোট দুটি ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অপারেটিং লাইসেন্স অর্জন করেছেন, যা দেশের জন্য একটি বিশাল গর্বের বিষয়।


এক নজরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বিষয়তথ্য
মোট ব্যয়১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার।
সহযোগী দেশরাশিয়া (আর্থিক ও কারিগরি)।
মোট উৎপাদন ক্ষমতা২,৪০০ মেগাওয়াট (প্রতিটি ইউনিট ১,২০০ মে.ও.)।
অবস্থানপদ্মা নদীর তীর, ঈশ্বরদী, পাবনা।
চাহিদা পূরণদেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি।

বিডিএস ডিজিটাল অ্যানালাইসিস (Editorial Insight)

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতার এক বড় মাইলফলক। গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে।


পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই যাত্রা কি বাংলাদেশের লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency