প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: রাজনীতি / জাতীয়
উৎস: জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এক নজিরবিহীন বিতর্কে জড়িয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কথিত ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলে শামা ওবায়েদ বক্তব্য দিলে সংসদ অধিবেশনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
বিএনপির সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তাঁর বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু নবীন সদস্যের বিরুদ্ধেও গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
তিনি বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা এমন এক বাংলাদেশে বসবাস করুক, যেখানে আইনের শাসন থাকবে। আমরা যদি কাদা–ছোড়াছুড়ি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবেই গুণগত উন্নয়ন সম্ভব।”
শামা ওবায়েদের বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ফ্লোর নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন:
“মাননীয় সংসদ সদস্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। আমি সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলাম। যেহেতু সরাসরি সংসদে এই অভিযোগ করা হয়েছে, তাই ওনাদের প্রমাণ দিতে হবে যে নাহিদ ইসলাম ঠিক কোথায় দুর্নীতি করেছেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি নির্বাচনের অনেক আগেই নীতিগত কারণে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
দুই নেতার মধ্যে যুক্তি-তর্ক চলাকালীন পরিস্থিতির সামাল দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করেননি, বরং একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। এরপর সংসদের পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
| পক্ষ | মূল বক্তব্য/অবস্থান |
| শামা ওবায়েদ ইসলাম | অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। |
| নাহিদ ইসলাম | অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের দাবি। |
| স্পিকারের রুলিং | বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম নেওয়া হয়নি। |
এই বিতর্ক প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের এই নতুন সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েই জুলাই অভ্যুত্থানের অংশীদার হলেও ক্ষমতার ভারসাম্য ও স্বচ্ছতা নিয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। শামা ওবায়েদের আক্রমণাত্মক বক্তব্য যেমন বিএনপির দলীয় শক্ত অবস্থানের প্রকাশ ঘটিয়েছে, তেমনি নাহিদ ইসলামের তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ প্রমাণ করে যে রাজপথের বিপ্লবীরা এখন সংসদীয় লড়াইয়েও সমান পারদর্শী। এই সুস্থ ধারার বিতর্ক গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংসদে আরও শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |