| বঙ্গাব্দ

রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু: পরমাণু বিদ্যুৎ যুগে বাংলাদেশ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-04-2026 ইং
  • 41124 বার পঠিত
রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু: পরমাণু বিদ্যুৎ যুগে বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশন: পরমাণু বিদ্যুৎ যুগে বাংলাদেশ

পরমাণু যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরের প্রথম ইউনিটে শুরু হলো ইউরেনিয়াম লোডিং

 BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বিভাগ: জাতীয় / জ্বালানি ও প্রযুক্তি

উৎস: (প্রকল্প এলাকা, ঈশ্বরদী)

বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে সূচিত হলো এক অনন্য অধ্যায়। এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ আর জটিল কারিগরি প্রস্তুতি শেষে আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টার পর পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (ইউনিট-১) আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

১. পরিচালন পর্বে বাংলাদেশ

জ্বালানি লোডিংয়ের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ‘পরিচালন পর্বে’ প্রবেশ করল। প্রকল্পের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ এবং দেশীয় দক্ষ প্রকৌশলীদের যৌথ তত্ত্বাবধানে রিয়্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

২. উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিড

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন:

  • প্রাথমিক উৎপাদন: জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টের শুরুতে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

  • পূর্ণ সক্ষমতা: ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

৩. রোসাটম ডিজির ঢাকা সফর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ

এই মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ সকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক (ডিজি) আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান। রূপপুর যাওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে তিনি হেলিকপ্টারে করে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

৪. প্রকল্পের গুরুত্ব ও কারিগরি দিক

পদ্মা নদীর তীরে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার সর্বাধুনিক ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে।

  • মোট উৎপাদন ক্ষমতা: ২,৪০০ মেগাওয়াট (দুটি ইউনিট মিলে)।

  • চাহিদা পূরণ: এটি পূর্ণ উৎপাদনে গেলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে সক্ষম হবে।

  • সাশ্রয়ী জ্বালানি: ৪১৭ লিটার ডিজেল যে পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে, মাত্র ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম থেকে সমপরিমাণ শক্তি পাওয়া সম্ভব।

৫. উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপন করেন। মন্ত্রী বলেন, "এটি কেবল একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ভবিষ্যতের প্রতীক।"


এক নজরে রূপপুর মেগা প্রজেক্ট

বিষয়তথ্য
মোট ব্যয়১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার।
প্রযুক্তির ধরনভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর (রাশিয়া)।
জ্বালানিইউরেনিয়াম।
বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যজুলাই-আগস্ট ২০২৬ (পরীক্ষামূলক)।
অবস্থানঈশ্বরদী, পাবনা।

বিডিএস ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight)

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন এনার্জি হিসেবে এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে। রাশিয়া এবং বাংলাদেশের এই যৌথ অর্জন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল।


পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কি বাংলাদেশের লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে? আপনার মতামত জানান।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency