| বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় ফিলিস্তিনিবিরোধী বর্ণবাদ ও লিডিয়া থর্পের হুঙ্কার: ২০২৬-এর মানবাধিকার সংকট

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-04-2026 ইং
  • 5277 বার পঠিত
অস্ট্রেলিয়ায় ফিলিস্তিনিবিরোধী বর্ণবাদ ও লিডিয়া থর্পের হুঙ্কার: ২০২৬-এর মানবাধিকার সংকট
ছবির ক্যাপশন: লিডিয়া থর্প

অস্ট্রেলিয়ায় ফিলিস্তিনিবিরোধী বর্ণবাদের বিষবাষ্প: জাতীয় ঐক্যের মুখে বড় চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ক্যানবেরা ও ঢাকা: ১৯০৫ সালের রাজনৈতিক বিবর্তন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আধুনিক বিশ্ব—মানবাধিকার ও সাম্যের লড়াই সবসময়ই ছিল অগ্রভাগে। কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষভাগে এসে অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত রাষ্ট্রে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষমূলক আচরণের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী সিনেটর লিডিয়া থর্প সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

১. বর্ণবাদের নেপথ্যে সরকার ও গণমাধ্যম

অস্ট্রেলিয়া প্যালেস্টাইন অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিনেটর থর্প অভিযোগ করেন যে, ফিলিস্তিনিবিরোধী এই বিষাক্ত পরিবেশ একা তৈরি হয়নি। এর পেছনে অস্ট্রেলিয়ার সরকার, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং মূলধারার গণমাধ্যমের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ উসকানি রয়েছে। তার মতে, গণমাধ্যমগুলো একপাক্ষিক খবর পরিবেশনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের প্রতি জনমনে ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

২. কণ্ঠরোধে কঠোর আইন

গাজায় চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে যারা অস্ট্রেলিয়ায় সোচ্চার হচ্ছেন, তাদের দমনে সরকার বিক্ষোভ সংক্রান্ত আইনগুলো নজিরবিহীনভাবে কঠোর করেছে। সিনেটর থর্প বলেন, এই আইন পরিবর্তনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি এবং তাদের সমর্থকদের ওপর মানসিক ও আইনি চাপ সৃষ্টি করা। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এক অপচেষ্টা চলছে।

৩. জাতীয় সংহতি ও শান্তি রক্ষায় সতর্কতা

থর্প সতর্ক করে বলেন, যদি অস্ট্রেলিয়া একটি জাতি হিসেবে শান্তি ও সংহতি বজায় রাখতে চায়, তবে সব ধরনের বর্ণবাদকে সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে। আদিবাসী হিসেবে তিনি নিজেও বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন, তাই তিনি মনে করেন ফিলিস্তিনিদের ওপর এই আচরণ জাতীয় ঐক্যকে দীর্ঘমেয়াদে ধ্বংস করে দেবে।


বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট: ২০২৬-এর সংযোগ

অস্ট্রেলিয়ার এই মানবাধিকার সংকটের সময়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও অস্থিরতা বিরাজ করছে।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের দেওয়া ‘সারপ্রাইজ অস্ত্রের’ হুমকি এবং হরমুজ প্রণালীর অবরোধ বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়েছে।

  • বাংলাদেশের স্মার্ট পরিকল্পনা: বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক সুরক্ষা এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • বিপরীতমুখী চিত্র: একদিকে অস্ট্রেলিয়ায় ফিলিস্তিনিদের দমন করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে রোমানিয়া সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে।


উপসংহার: ব্রুস লির সেই দর্শনের মতো—সফলতা কেবল পরিকল্পনায় নয়, বরং সঠিক কাজে। অস্ট্রেলিয়া যদি নিজেকে একটি সভ্য দেশ হিসেবে দাবি করে, তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বর্ণবাদ বন্ধে কেবল আলোচনা নয়, বরং বাস্তবমুখী ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নিতে হবে। ১৯০৫ থেকে ২০২৬—ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, নিপীড়িতদের কণ্ঠরোধ করে কোনো দেশ বেশিদিন শান্তিতে থাকতে পারে না।


তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, অস্ট্রেলিয়া প্যালেস্টাইন অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency