প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আগামী ১০ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (৯ মে) এক বিশেষ বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে তিনি একটি স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন:
সহিংসতা প্রতিরোধ: মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভয়ের সংস্কৃতি দূরীকরণ: জনগণ এখন গুম, অপহরণ এবং নির্যাতনমুক্ত একটি মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রত্যাশা করে, যেখানে জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে।
আস্থা ও বিশ্বাস: পুলিশের দায়িত্ব পালনের পথ সুগম করতে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য।
পেশাদারিত্বের অগ্রাধিকার: রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের সাম্প্রতিক অর্জনগুলো তুলে ধরেন:
নির্বাচনকালীন ভূমিকা: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের দক্ষতা প্রমাণ করেছে যে, অনুকূল পরিবেশে তারা সফলভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক খ্যাতি: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল অবদান বিশ্বদরবারে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
আধুনিকায়ন: পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নকে সরকার জননিরাপত্তার বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা ও জননিরাপত্তার চিত্রটি ১৯০০ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত এক সুদীর্ঘ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ঔপনিবেশিক আমল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ পুলিশি ব্যবস্থা মূলত আন্দোলন দমন ও ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত ছিল। তখন জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব ছিল প্রকট।
স্বাধীনতা যুদ্ধ ও পুলিশের আত্মত্যাগ (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর দেশপ্রেম প্রমাণিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে যে মুক্তির ডাক দেওয়া হয়েছিল, তার সার্থকতা ছিল একটি নিরাপদ সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন।
গণতন্ত্রের পথচলা (১৯৯০-২০২৪): ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর অধীনে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন শুরু হলেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ব্যবহার ও আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর সংস্কার: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৫-২৬ সালে বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে পুলিশের সংস্কার এবং জনগণের ‘সেবক’ হিসেবে তাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ২০২৬ সালের পুলিশ সপ্তাহ মূলত সেই আস্থার সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিটি সবচেয়ে জোরালো ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিবৃতিতে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা মূলত ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ২০২৬ সালের একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনেরই প্রতিফলন।
সূত্র: ১. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিবৃতি (৯ মে, ২০২৬)। ২. দৈনিক যুগান্তর (মূল সংবাদ ও বিশ্লেষণ সূত্র)। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশ পুলিশের বিবর্তন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা (১৯৭১-২০২৬)
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |