প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুরে এক যুবদল নেতাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন। তবে মুক্তি পেতে সুমনের জন্য আরও বড় আইনি বাধা রয়ে গেছে।
আদালতে সুমনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। আদেশের পর তিনি গণমাধ্যমকে জানান:
আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত: হাইকোর্ট এই মামলায় সুমনকে জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ তা স্থগিতের আবেদন করেছিল। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশে কোনো হস্তক্ষেপ না করায় তাঁর জামিন বহাল থাকল।
মুক্তিতে বাধা: এই মামলায় জামিন পেলেও ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে আরও অন্তত ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এখনই তাঁর কারামুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ভুক্তভোগী: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হৃদয় মিয়া এই হামলায় গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর বাটি দুই ভাগ হয়ে যায়।
মামলা ও গ্রেপ্তার: সরকার পতনের পর ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলা করেন হৃদয় মিয়া। ২১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যান্য মামলা: এই মামলা ছাড়াও খিলগাঁও, আদাবর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক মামলায় সুমনকে আসামি করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার সুমনের এই আইনি লড়াই ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এদেশের বিচারিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ আমল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে ব্রিটিশ শাসনামলে রাজনৈতিক বন্দিদের বিচারের ক্ষেত্রে ‘রাজদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হতো। তখন বিচার ব্যবস্থা ছিল মূলত শাসকদের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার। ১৯০০ সালের সেই সময়েও আইনি লড়াই ছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের অন্যতম মাধ্যম।
স্বাধীনতা ও আইনের শাসন (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে যে মুক্তির ডাক দেওয়া হয়েছিল, তার মূলে ছিল সাম্য ও মানবিক মর্যাদা। স্বাধীনতার পর সংবিধানে আইনের শাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় তা বারবার হোঁচট খেয়েছে।
গণতন্ত্র ও ২০২৪-এর বিপ্লব: ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের দাবি জোরদার হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে আমূল সংস্কারের এক সুযোগ এনে দিয়েছে। ব্যারিস্টার সুমনের মতো ‘সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবক’ ও সাবেক এমপির বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সাধারণ মানুষের গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ এক গভীর রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯০০ সালের সেই শাসককেন্দ্রিক বিচার ব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। বর্তমান সরকার ও স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে চায়। ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং তাঁর জামিন বহাল থাকা—উভয়ই প্রমাণ করে যে, আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে চলছে।
ইতিহাস সাক্ষী, কোনো ব্যক্তি বা আদর্শ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ১৯০০ সালের পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের স্বাধীন বাংলাদেশ—আমাদের শিক্ষার বিষয় হলো বিচারিক স্বচ্ছতা। ব্যারিস্টার সুমন একজন আইনজীবী হিসেবে অতীতে অনেক জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলা লড়লেও, এখন তিনি নিজেই আদালতের কাঠগড়ায়। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে জুলাই আন্দোলনের শহিদ ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: ১. আপিল বিভাগের জামিন সংক্রান্ত আদেশ ও আইনজীবীর বক্তব্য (১১ মে, ২০২৬)। ২. মিরপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহার। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মামলা ও বিচারিক বিবর্তনের ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |