| বঙ্গাব্দ

হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের ওপর হামলা: জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও গ্রেফতার দাবি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-02-2026 ইং
  • 1725250 বার পঠিত
হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের ওপর হামলা: জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও গ্রেফতার দাবি
ছবির ক্যাপশন: জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও গ্রেফতার দাবি

নোয়াখালীর রাজনৈতিক সংঘাত ও এমপি হান্নান মাসউদের ওপর হামলার নেপথ্যে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নোয়াখালী: বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে নোয়াখালী সব সময়ই একটি উত্তপ্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং বর্তমান ২০২৬ সালের সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা—প্রতিটি ধাপেই নোয়াখালীর রাজনৈতিক মেরুকরণ ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের ওপর বর্বরোচিত হামলা নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) নোয়াখালী অঞ্চলে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লড়াই ছিল দেখার মতো। ১৯৪৬ সালের নোয়াখালী দাঙ্গা এবং পরবর্তীকালে মহাত্মা গান্ধীর শান্তি মিশন এই অঞ্চলের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর হাতিয়া ও সন্দ্বীপের মতো উপকূলীয় অঞ্চলের রাজনীতি ছিল মূলত প্রভাবশালী জোতদার ও রাজনৈতিক এলিটদের নিয়ন্ত্রণে।

নব্বয়ইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তিন দশকে এই অঞ্চলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যেকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটেছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তরুণ নেতৃত্বের যে জোয়ার তৈরি হয়, তারই প্রতিফলন হিসেবে এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর হামলা প্রমাণ করে যে, পুরনো রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে।

হামলার বিবরণ ও জামায়াতের উদ্বেগ

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান এমপি হান্নান মাসউদ। সেখানে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। জামায়াতে ইসলামীর দাবি অনুযায়ী, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হামলায় এমপি হান্নান মাসউদসহ এনসিপির ১৫-২০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, "সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এই ন্যক্কারজনক হামলা গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থি। যেখানে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যেরই নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?"

'আইনহীনতার সংস্কৃতি' ও প্রশাসনের ভূমিকা

অ্যাডভোকেট জুবায়ের তাঁর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক সহিংসতার এই পুনরাবৃত্তি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী 'আইনহীনতার সংস্কৃতি' বিস্তার লাভ করতে পারে, যা জাতির জন্য একটি অশনিসংকেত। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন: ২০২৬-এর নতুন চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় নোয়াখালীর রাজনীতি অনেক পরিবর্তন দেখেছে। ২০২৬ সালের এই সংসদে যখন তরুণ নেতৃত্ব ও নতুন দলগুলো (যেমন এনসিপি) উঠে আসছে, তখন পুরনো বৃহৎ দলগুলোর একাংশের অসহিষ্ণুতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। হাতিয়ার এই হামলা কেবল হান্নান মাসউদের ওপর নয়, বরং ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী 'নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের' ওপর একটি আঘাত। জামায়াতে ইসলামীর এই প্রতিবাদ মূলত আগামী দিনে জোট রাজনীতির কৌশল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রক্ষার একটি বড় তাগিদ।


সূত্র: যুগান্তর, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), এনসিপি মিডিয়া সেল এবং নোয়াখালী জেলা সংবাদদাতা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency