| বঙ্গাব্দ

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত বিজয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-05-2026 ইং
  • 65754 বার পঠিত
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত বিজয়
ছবির ক্যাপশন: জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বহাল: আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ও আইনি লড়াইয়ের অবসান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও নাটকীয়তার পর রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) দলটির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে দলটির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি পূর্ণতা পেল।

রায় ও আইনি পরিক্রমা

আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ, এই ঐতিহাসিক রায়টি ঘোষণা করেছিলেন। রায়ের মূল বিষয়গুলো হলো:

  • ইসির পদক্ষেপ: সর্বোচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জামায়াতের ‘পেন্ডিং রেজিস্ট্রেশন’ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

  • নিবন্ধন ও প্রতীক: আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে তাদের পূর্বের প্রতীকসহ (দাঁড়িপাল্লা নয়, সংশোধিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী) নিবন্ধন ফিরিয়ে দিয়েছে।

ইতিহাসের কালপঞ্জি: ২০১৩ থেকে ২০২৬

জামায়াতের নিবন্ধনের লড়াইটি ছিল দীর্ঘ এবং কণ্টকাকীর্ণ:

  • ২০১৩-২০১৮: হাইকোর্ট ২০১৩ সালে দলটির নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে ইসি প্রজ্ঞাপন জারি করে নিবন্ধন বাতিল করে।

  • ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার সরকার জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে সরকার পতনের পর ২৮ আগস্ট সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়।

  • পুনরুজ্জীবন ও চূড়ান্ত রায়: পূর্বে ‘ডিসমিসড ফর ডিফল্ট’ হওয়া আপিলটি ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর পুনরুজ্জীবিত হয় এবং মেরিটের ভিত্তিতে শুনানি শেষে আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।


বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংগঠনের অধিকার: ১৯০০ থেকে ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার এই ঘটনাটি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এদেশের রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার ও গণতান্ত্রিক বিবর্তনের এক অনন্য অধ্যায়।

  • বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ আমল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে এবং ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির সূচনা হয়। তখন থেকেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বা স্বীকৃতি ব্রিটিশ শাসকদের দমননীতির শিকার হতো। ১৯০০ সালের সেই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের স্বাধীনতা ছিল মূলত এক দীর্ঘ লড়াইয়ের নাম।

  • স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জয়গান। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ও পুনর্গঠনের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তনের মাধ্যমে অনেক দল রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়।

  • গণতন্ত্র ও ২০২৪-এর বিপ্লব: ১৯৯০ সালের পর গণতান্ত্রিক ধারায় দলগুলো অংশ নিলেও গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক দল দমনের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ‘সকল দলের সমান অধিকার’ এবং ‘বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা’র এক নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

  • ২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ এক গভীর রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯০০ সালের সেই শাসক-নির্ধারিত রাজনীতির আমল থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশে এখন আইনের শাসনেই দলগুলোর ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়া প্রমাণ করে যে, বিচার বিভাগ এখন নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

ইতিহাস সাক্ষী, কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিক আদেশে দাবিয়ে রাখা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। ১৯০০ সালের পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের স্বাধীন বাংলাদেশ—আমাদের শিক্ষার বিষয় হলো আইনি প্রক্রিয়া ও জনমতের প্রতিফলন। আপিল বিভাগের এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ আরও প্রশস্ত হলো। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য হওয়া উচিত সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জনগণের সেবা করা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের বক্তব্য (১১ মে, ২০২৬)। ২. নির্বাচন কমিশনের গেজেট ও প্রজ্ঞাপনসমূহ (২০১৩-২০২৬)। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিচারিক বিবর্তন (১৯৭১-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency