প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে একের পর এক বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন এবং বিএসএফের গুলিতে নিহতদের কবর জিয়ারত শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধে লংমার্চসহ একগুচ্ছ আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের মন্ত্রীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন:
সার্বভৌমত্ব বনাম সংবিধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু সংবিধান বোঝেন, কিন্তু সার্বভৌমত্ব বোঝেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দায় চাপানোর রাজনীতি: সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন; এই ‘নাটক’ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান তিনি।
নিরাপত্তাহীনতা: সরকার চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের নিরাপত্তা দিলেও সীমান্তে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে।
সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে এনসিপি রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে:
সীমান্ত সমাবেশ: দেশের ৩২টি সীমান্ত জেলায় সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মহাসমাবেশ ও সুরক্ষা কমিটি: শহীদ পরিবারগুলোকে নিয়ে ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ‘সীমান্ত সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হবে।
লংমার্চ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে প্রয়োজনে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে, কেউ অপরাধী হলেও তাকে বিচার ছাড়া গুলি করে হত্যা করা যায় না। বিজিবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজিবি সীমান্ত রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে এবং নিহতদের ওপর দোষ চাপিয়ে ভারতীয় বক্তব্যের মতো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া এনসিপি ক্ষমতায় গেলে মাদক পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এক সুদীর্ঘ ইতিহাসের অংশ।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও মানচিত্রের বিবর্তন (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে এ অঞ্চলের সীমানা নিয়ে প্রথম বড় ধরনের বিতর্ক শুরু হয়। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকে ১৯৪৭ সালের রেডক্লিফ লাইন পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল।
স্বাধীনতা ও সীমান্ত সুরক্ষা (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা। স্বাধীনতার পর বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) গঠিত হলেও সীমান্ত হত্যা একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট হিসেবে থেকে গেছে।
২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান ও নতুন রাষ্ট্র ভাবনা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশে একটি জাতীয়তাবাদী ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আপসহীন চেতনার জন্ম দিয়েছে। এনসিপির মতো নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উত্থান এই চেতনারই প্রতিফলন।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশে এখন সীমান্ত হত্যা কেবল একটি নিরাপত্তা সমস্যা নয়, বরং এটি জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভারতের ‘দাদাগিরি’ মেনে না নেওয়ার বক্তব্য ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতারই বহিঃপ্রকাশ।
ইতিহাস সাক্ষী, যে জাতি নিজের সীমান্ত রক্ষা করতে পারে না, তার সার্বভৌমত্ব সবসময়ই ঝুঁকির মুখে থাকে। ১৯০০ সালের সেই রাজবংশীয় আমল থেকে ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি যে, সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন রাজনীতির প্রধান দাবি। এনসিপির প্রস্তাবিত কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়িত হলে তা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে দাঁড়িয়ে সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিটি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: ১. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আয়োজিত এনসিপির প্রেস ব্রিফিং ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য (১২ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের সীমান্ত নীতি ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |