| বঙ্গাব্দ

ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালুর তীব্র চাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-05-2026 ইং
  • 2699 বার পঠিত
ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালুর তীব্র চাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশন: ডোনাল্ড ট্রাম্প

অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালুর তীব্র চাপে ট্রাম্প: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনা


চীন সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর বিষয়ে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। তেহরানের সাথে চলমান কূটনীতিতে আশানুরূপ কোনো বড় ধরনের সাফল্য না আসায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ উপদেষ্টারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পুরো পরিস্থিতি এখন তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নিচে পেন্টাগনের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র খসড়া, ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো।


স্থগিত হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পুনরায় চালুর খসড়া

পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) পুনরায় চালুর জন্য একটি নতুন খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত আরও বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পরিকল্পনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে।

এই নতুন সামরিক পরিকল্পনার মধ্যে দুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • জোরালো বোমাবর্ষণ: ইরানের মূল সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত অবস্থানগুলোতে আগের চেয়ে আরও নিখুঁত ও জোরালো বিমান হামলা চালানো।

  • বিশেষ সেনা মোতায়েন: ইরানের ইসফাহানে মাটির নিচে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে বিশেষ মার্কিন কমান্ডো বা সেনা মোতায়েনের মতো চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সামরিক পদক্ষেপ।


ইরানের শান্তি প্রস্তাব বাতিল ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে চীন-মার্কিন একমত

এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প জানান, প্রস্তাবটির প্রথম বাক্যটি তাঁর পছন্দ না হওয়াতেই তিনি সরাসরি এটি বাতিল করে দিয়েছেন।

তবে চীন সফরকালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ট্রাম্প একটি ইতিবাচক দাবি করেছেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিং একমত হয়েছে। একই সাথে ট্রাম্প তেহরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, ইরানের ব্যাপারে তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে এবং তেহরানকে দ্রুত একটি মার্কিন স্বার্থানুকূল চুক্তিতে আসতে হবে।


মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট: ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ইরানের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন

এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি গোপন মূল্যায়ন পেন্টাগনের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ সত্ত্বেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

  • ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ: হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত ইরানের ৩৩টি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিতেই তেহরান পুনরায় তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

  • অক্ষত ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ: মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, বিগত হামলাগুলোর পরও ইরানের পূর্বের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও সম্পূর্ণ অক্ষত ও কার্যকর রয়েছে।

এই রিপোর্টের জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও মার্কিন প্রশাসনকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।


বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার এই নতুন উত্তেজনার পারদ চড়ার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (Crude Oil) দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা মন্দাক্রান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে বড় উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।


তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References)

১. আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (মূল উৎস): The New York Times (নিউইয়র্ক টাইমস)—ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সামরিক চাপ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদন। ২. পেন্টাগন ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর: মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ কর্তৃক আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং ও পেন্টাগন প্রেস রিলিজ (মে ২০২৬)। ৩. ইরানি গণমাধ্যম: ইরনা (IRNA) — ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সামরিক হুঁশিয়ারি সংক্রান্ত বিবৃতি। ৪. বাজার বিশ্লেষণ: ব্লুমবার্গ এনার্জি (Bloomberg Energy) — মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত অর্থনৈতিক প্রতিবেদন।


শেষ কথা

উপসংহারে বলা যায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার এই খসড়া পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন চীন থেকে ফিরে পেন্টাগনের এই যুদ্ধ পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেন, নাকি নতুন কোনো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেন—তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency