বাম গণতান্ত্রিক জোট ও সংশ্লিষ্ট বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তিসমূহ চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়া এবং মায়ানমারের রাখাইনে কথিত করিডর বাস্তবায়নের উদ্যোগকে "জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও আত্মঘাতী" আখ্যা দিয়ে তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে আগামী ২৭ ও ২৮ জুন ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো দেশের সম্পদ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা।
২১ জুন শনিবার পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
তিনি বলেন,
“নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এমনসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা জনগণের ম্যান্ডেটহীন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী চাপে প্রভাবিত।”
উল্লেখযোগ্য মূল অভিযোগসমূহ:
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের লিজে দেওয়া হলে জাতীয় সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে
করিডর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে
স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে মার্কিন সামরিক নজরদারি সম্ভব
তুরস্ক ও কাতারকে অস্ত্র কারখানার অনুমতি দেওয়া বাংলাদেশের নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করবে
২৭ জুন (প্রথম দিন):
সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে উদ্বোধনী সমাবেশ
ঢাকা → নারায়ণগঞ্জ → কুমিল্লা পর্যন্ত মিছিল ও পথসভা
রাত্রীযাপন: কুমিল্লা
২৮ জুন (দ্বিতীয় দিন):
সকাল: কুমিল্লা → ফেনী → মিরসরাই → সীতাকুণ্ড
শেষ সমাবেশ: চট্টগ্রাম বন্দরের সামনে
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং দেশের ৯২% আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এখান দিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিশ্বরাজনীতি ও বাণিজ্য প্রবাহে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
অতীতে:
ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল সামরিক ও বাণিজ্যিক ট্রানজিট পয়েন্ট
পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য "গেটওয়ে" হিসেবে ব্যবহৃত
স্বাধীনতার পর থেকে বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন শুরু হলেও, বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল
মায়ানমারের রাখাইনে তথাকথিত মানবিক করিডর বা রিলিফ চ্যানেল তৈরির ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
তবে বাম নেতাদের মতে:
এটি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে মার্কিন প্রভাব বলয়ে রাখা সহজ হবে
এই করিডরের মাধ্যমে রাশিয়া-চীন বিরোধী সামরিক নিয়ন্ত্রণের ‘স্মার্ট ঘাঁটি’ তৈরির ঝুঁকি রয়েছে
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে সামরিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে
বাম জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারলিংক ইন্টারনেট শুধুই স্যাটেলাইট কানেকশন নয়—
এটি একটি “দ্বৈত-ব্যবহারের (dual-use)” সামরিক প্রযুক্তি, যা যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি ও সাইবার জ্যামিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা-প্যালেস্টাইন পরিস্থিতিতে এর ব্যবহার “ডকুমেন্টেড”।
এছাড়াও, তুরস্ক ও কাতারকে বাংলাদেশে অস্ত্র কারখানা নির্মাণের আহ্বান নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সামরিক ভারসাম্য ও কূটনৈতিক নিরপেক্ষতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
জনগণের মধ্যে জাতীয় স্বার্থে সচেতনতা বৃদ্ধি
দেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা ও পুনর্বিবেচনা
বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐক্যের সূচনা হতে পারে
সরকার ও সমর্থক মহলে এই আন্দোলনকে “আলোচনার বাইরে বিষয়” বলে নাকচ করা
রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা ও নজরদারি বাড়তে পারে
বিরোধীদলের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আন্দোলনের ধারাকে দুর্বল করতে পারে
চট্টগ্রাম বন্দর, রাখাইন করিডর, স্টারলিংক এবং সামরিক কারখানা—এই চারটি ইস্যুতে বাম জোটের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং ঘোষিত রোড মার্চ বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, জাতীয় সম্পদ, এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এই প্রতিবাদ শুধু একটি বাম মতবাদের প্রতিফলন নয়, বরং তা জনগণের অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং স্বাধীন নীতিনির্ধারণের দাবির ভিত্তি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
Q1: বাম জোট চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়ার বিষয়ে কী বলছে?
A: এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, যা জাতীয় সম্পদকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার সমান।
Q2: রাখাইন করিডরের বিষয়ে তাদের আপত্তি কী?
A: এতে বাংলাদেশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ভূ-রাজনৈতিক খেলায় জড়িয়ে পড়বে।
Q3: স্টারলিংক ইন্টারনেট নিয়ে কেন আপত্তি?
A: এটি সাইবার ও সামরিক নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়, যা দেশের নিরাপত্তায় হুমকি।
Q4: রোড মার্চের উদ্দেশ্য কী?
A: জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরি ও সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা।
Q5: বাম জোট কারা?
A: সিপিবি, বাসদ, গণমুক্তি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র জোটসহ একাধিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠন।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |