| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধের আহ্বান ইউনিসেফের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-05-2026 ইং
  • 13317 বার পঠিত
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধের আহ্বান ইউনিসেফের
ছবির ক্যাপশন: ইউনিসেফ

বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর বর্বরতা বন্ধের আহ্বান ইউনিসেফের: বিচারহীনতার সংস্কৃতি অবসানের দাবি

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৩ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস булবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশু ও নারীদের ওপর নির্মম সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। বিশেষ করে যে জায়গাগুলোতে শিশুরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেখানেই তারা চরম নির্মমতার শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (২২ মে) এক বিবৃতিতে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শিশুদের ওপর এই বর্বরতা অবশ্যই অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”

১. ২০২৬-এ বাড়ছে সহিংসতা: বিচারহীনতার অবসানের দাবি

বিবৃতিতে রানা ফ্লাওয়ার্স উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন ও পাশবিক সহিংসতা বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এটি দেশব্যাপী শিশু এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

তিনি অপরাধীদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সহিংসতা রিপোর্টিং, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবা খাতের বিদ্যমান ঘাটতিগুলো দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেন।

২. "সমাজ নীরব থাকলে সহিংসতা ছড়ায়"

ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, সহিংসতা তখনই ডালপালা মেলে যখন সমাজ নীরব থাকে। তাই আদেশ বা শোষণের ঘটনা ঘটলে তা চেপে না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-সহ অন্যান্য সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে রিপোর্ট করার জন্য ইউনিসেফ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

পাশাপাশি তিনি নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক ও সামাজিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও কেয়ার সেন্টারগুলোর জবাবদিহিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

৩. সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি-ভিডিও শেয়ার করা ‘পুনর্নির্যাতন’

বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার প্রতি বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফ জানায় যে, ভুক্তভোগীদের ছবি, ভিডিও বা পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা এক ধরনের পুনর্নির্যাতন। যারা এগুলো ফেসবুকে বা অন্য মাধ্যমে শেয়ার বা রি-শেয়ার করছেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক ট্রমা এবং কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

তাই সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি ভুক্তভোগীদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর এবং এই ধরণের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। রানা ফ্লাওয়ার্স পরিশেষে বলেন, প্রতিটি শিশুর সমাজ, বিদ্যালয়, ঘর—এমনকি পাবলিক স্পেসে সুরক্ষিত থাকার অধিকার রয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তুলতে হবে।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (Sources):

১. ইউনিসেফ বাংলাদেশ (UNICEF Bangladesh): ২২ মে, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত অফিশিয়াল প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি।

২. জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র (UNIC) ঢাকা: আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ক নিয়মিত নোটিশ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency