আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৩ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুুলবুল আহমেদ
বেইজিং: চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনার সময় খনির ভূগর্ভস্থ অংশে ২৪৭ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত শুক্রবার (২২ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে এই খনি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শানসি প্রদেশের টংঝৌ গ্রুপ পরিচালিত ‘লিউশেনইউ’ কয়লা খনিতে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে খনির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ঘটনার পরপরই শত শত দক্ষ উদ্ধারকারী ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, খনি মুখের চারপাশে তীব্র আলো জ্বেলে শত শত কর্মী কাজ করছেন এবং অ্যাম্বুলেন্সের পাশে স্ট্রেচারে করে আহত ও দগ্ধ শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে খনির ভেতরে আটকে থাকা বাকি শ্রমিকদের সন্ধানে এখনও বড় আকারের উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি আহত শ্রমিককে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই বড় খনি দুর্ঘটনার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধার ও চিকিৎসাকার্যক্রমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শক্তি ও চেষ্টা নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং খনি ব্যবস্থাপনায় অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খনির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত ঘটে।
চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খনির ভেতরে জটিল সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাতে বিশেষায়িত ছয়টি দল থেকে ৩৪৫ জন অভিজ্ঞ উদ্ধারকারী কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শানসি প্রদেশকে চীনের প্রধান কয়লা উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে খনি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতেও শানসির বিভিন্ন কয়লা খনিতে সুরক্ষাজনিত ত্রুটির কারণে একাধিক বড় দুর্ঘটনা এবং ব্যাপক প্রাণহানির নজির রয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (Xinhua): ২৩ মে, ২০২৬ তারিখে শানসি প্রদেশের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত অফিশিয়াল তথ্য ও হতাহতের সংখ্যা।
বিবিসি ইন্টারন্যাশনাল (BBC World): বেইজিং ব্যুরো কর্তৃক ২২ ও ২৩ মে ২০২৬ তারিখে টংঝৌ গ্রুপের লিউশেনইউ খনি দুর্ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ লাইভ আপডেট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |