সোমবার, ২৫ মে ২০২৬: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যখন তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে, ঠিক তখনই এক নতুন নাটকীয় মোড় সামনে এসেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে—তেহরানের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সেখানে দেশটির পারমাণবিক হুমকি সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে দূর করার শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গত রোববার (২৪ মে ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তাঁর গভীর কূটনৈতিক আলোচনার এই চাঞ্চল্যকর বিবরণ প্রকাশ করেন।
নেতানিয়াহু তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের সাথে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করার অর্থ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। তিনি একে ব্যাখ্যা করে বলেন:
"এর প্রকৃত অর্থ হলো—ইরানের ভূখণ্ডে থাকা সমস্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা বা প্ল্যান্টগুলো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা এবং দেশটির কাছে মজুত থাকা সমস্ত সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান বা ফুয়েল ইরানের সীমানার বাইরে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া।"
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, "আমার ব্যক্তিগত নীতি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি সম্পূর্ণ একই সুতোয় গাঁথা—আর তা হলো, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে পারবে না।"
দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী জানান, গত শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ফোনালাপ হয়েছে। ওই আলোচনায় মূলত বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ($Strait\ of\ Hormuz$) পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা উঠে এসেছিল। ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের নিরাপত্তা ও একক আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
┌────────────────────────────────────────┐
│ ওয়াশিংটন-তেল আবিব যৌথ অবস্থান (২০২৬) │
└───────────────────┬────────────────────┘
│
┌────────────────────────────┴────────────────────────────┐
▼ ▼
【পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে ঐক্য】 【কৌশলগত নীতিগত ফাটল】
- ইরানকে পরমাণু বোমা বানাতে না দেওয়া. - ট্রাম্প চান দ্রুত যুদ্ধ থেকে প্রস্থান.
- সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ অপসারণ. - নেতানিয়াহু চান প্রক্সি ও মিসাইল ধ্বংস.
- IAEA-এর কড়া নজরদারি নিশ্চিত করা. - ইসরাইলের দাবি সামরিক চাপ বজায় রাখা.
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর খবরের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য সামনে এলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ঘিরে বৈশ্বিক কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এখনো দৃশ্যত অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তবে মূল বাস্তবতা হলো—ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য যে চুক্তির রূপরেখা তৈরি হচ্ছে, সেখানে ইসরাইলকে সরাসরি কোনো পক্ষ বা অংশীদার হিসেবে রাখা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার এই একক সিদ্ধান্তে খুশি নয় তেল আবিব। কিন্তু হোয়াইট হাউসের সাথে সম্পর্কে বড় ধরনের কোনো ফাটল যাতে প্রকাশ না পায়, সেজন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সাথে তাঁর এই ঐকমত্যের কথা প্রচার করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed
পোর্টফোলিও লিংক:
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্ল্যান্ট, হরমুজ প্রণালি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনীতি ও সামরিক উত্তেজনার নিখুঁত, বস্তুনিষ্ঠ ও সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |