| বঙ্গাব্দ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ: বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-05-2026 ইং
  • 7738 বার পঠিত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ: বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি
ছবির ক্যাপশন: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

আজ শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নিহত হন তিনি। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনের ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এসব কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতির শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির প্রধান প্রধান কর্মসূচি ও তাঁর রাজনৈতিক জীবনলেখ্য নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

১. ৩০ মে শনিবারের কেন্দ্রীয় ও দেশব্যাপী মূল কর্মসূচি

শনিবার ভোর ৬টা থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনপির দলীয় কার্যালয়গুলোতে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রধান কর্মসূচিসমূহ নিম্নরূপ:

  • পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন: ভোর ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

  • সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ: বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

  • দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ: শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে টি অ্যান্ডটি খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি রাজধানীর আরও ১৬টি স্থানে আয়োজিত বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বিকাল ৩টায় দলটির পক্ষ থেকে পৃথক বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে।

  • জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের শ্রদ্ধা: সকাল সাড়ে ৯টায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

২. অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব ও পরবর্তী কর্মসূচি

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন:

  • হাইকোর্ট মাজার এলাকা: বেলা ১১টায় আইনজীবীদের আয়োজনে দুস্থদের মাঝে সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন রুহুল কবির রিজভী।

  • কারওয়ান বাজার এলাকা: বেলা ১১টা ২০ মিনিটে এফডিসির সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

  • তৃণমূল পর্যায়ের কর্মসূচি: ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের সব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুস্থ মানুষের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

  • আইইবি মিলনায়তনে আলোচনা সভা: পরদিন ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

৩. এক নজরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও অবদান

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত সেনাপতি এবং সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি [১.৮]। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি অনন্য ইতিহাস তৈরি করেন
এক নজরে তাঁর জীবন, কর্ম এবং দেশের জন্য রাখা প্রধান অবদানসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত (Life Sketch) 
  • জন্ম: ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬, বাগবাড়ী, বগুড়া 
  • পিতা ও মাতা: মনসুর রহমান (রসায়নবিদ) এবং জাহানারা খাতুন।
  • শিক্ষা ও সামরিক জীবন: ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৫৫ সালে কমিশন লাভ করেন।
  • বিবাহ: ১৯৬০ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
  • শহাদত বরণ: ৩০ মে ১৯৮১, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক সেনা অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন। (আজ ৩০ মে তাঁর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী
২. মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা (Role in Liberation War)
  • স্বাধীনতার ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ রাতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা পাঠ করেন [১.৭, ১.৮]। এই ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে যুদ্ধের ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস জোগায়।
  • প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ: অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর হিসেবে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। 
  • সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক: প্রথমদিকে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন, পরবর্তীতে ১ ও ১১ নম্বর সেক্টর নিয়ে গঠিত ঐতিহ্যবাহী 'জেড ফোর্স'-এর (Z Force) ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করেন 
  • রাষ্ট্রীয় খেতাব: মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে 'বীর উত্তম' উপাধিতে ভূষিত করে
৩. রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রধান অবদান (Major Achievements as President)
১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন [১.৮]। তাঁর শাসনামলের প্রধান সাফল্যগুলো হলো:
  • বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল) থেকে দেশকে বহুদলীয় শাসন ও সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরিয়ে আনেন। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ'-এর দর্শন প্রবর্তন করেন।
  • দল গঠন: ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) প্রতিষ্ঠা করেন 
  • স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও খাল খনন কর্মসূচি: দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশব্যাপী 'খাল খনন কর্মসূচি' শুরু করে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় অভাবনীয় বিপ্লব ঘটান।
  • সবুজ বিপ্লব ও শিক্ষার প্রসার: দেশের গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন এবং 'সবুজ বিপ্লব'-এর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেন। 
  • আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সার্ক (SAARC): দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক জোট 'সার্ক' (SAARC) গঠনের মূল উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। মিডল-ইস্ট বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। 

শহীদ জিয়াউর রহমান তাঁর সততা, সাধারণ জীবনযাপন এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় স্থান দখল করে আছেন 

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি তাদের দলীয় ও রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে এই দিনটিকে বেছে নিয়েছে। তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে দলের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এই ৮ দিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি মূলত মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার একটি প্রয়াস। জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত 'বহুদলীয় গণতন্ত্র', 'খালকাটা কর্মসূচি' এবং 'সার্ক-এর ভাবনা' আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে প্রাসঙ্গিক। তাঁর শাহাদাতবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে এই ব্যাপক খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি দলটির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed

ডিজিটাল গ্রোথ, পলিটিক্যাল এসইও ক্যাম্পেইন এবং লোকাল নিউজ অপ্টিমাইজেশন দেখতে ভিজিট করুন:বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency