ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ‘মূল হোতা’ কে বা কারা, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নতুন করে তুমুল আলোচনা ও নানামুখী গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ওয়ান-ইলেভেন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই অন্যতম সংগঠকের হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। তিনি হাদির সাথে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের রহস্যময় পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
গত বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আব্দুল কাদের এই চাঞ্চল্যকর প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কুশীলবদের খুঁজতে ইনকিলাব মঞ্চের বাকি শীর্ষ নেতাদের মুখ খোলার আহ্বান জানান।
পরিচয় নিয়ে সন্দেহ: ওসমান হাদি ভাই খুন হওয়ার পর থেকেই একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি—অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে হাদির পরিচয় কীভাবে হলো?
অস্ত্র মামলার আসামির সংযোগ: মাত্র কয়েকমাস আগে অস্ত্র মামলায় জামিন পাওয়া একজন দুর্ধর্ষ আসামি মাসুদ কার মাধ্যমে হাদির এতো কাছাকাছি আসার সুযোগ পেলো?
নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ: ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে হাদি ভাইয়ের সঙ্গে তাদের প্রাণবন্ত আলোচনা এবং একাধিকবার তার নির্বাচনি প্রচারে তাদের অংশগ্রহণ কী নির্দেশ করে?
কাদেরের মতে, হাদি ভাইকে এতোটা ক্লোজলি এনগেইজ করার পেছনে তো কেউ না কেউ অবশ্যই তাদের ব্যাপারে অভয় দিয়েছিলেন বা রিকমেন্ড করেছিলেন।
আব্দুল কাদের তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার পরপরই জাতীয় দৈনিকগুলো ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষ নেতা জুমা ও জাবের ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই রহস্যময় পরিচয়ের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু তারা তখন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
"৫ আগস্টের পরে আমার আস্থাভাজন মানুষদের রিকমেন্ডেশনে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে পরিচয় হয়েছে। হাদি ভাইয়ের ক্ষেত্রেও তো স্বাভাবিকভাবে তা-ই হওয়ার কথা। তাছাড়া ঘটনার আগে অনেকেই নাকি তাকে সতর্ক করেছিল, সেই বিবেচনায় তো তিনি সতর্কতা অবলম্বন করার কথা। যাই হোক, জুমা-জাবের ভাই কিংবা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের এই বিষয়ে এবার মুখ খোলা উচিত।" — আব্দুল কাদের, সাবেক সমন্বয়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে গুলি অপসারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা এই জুলাই সংগঠককে বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যান দেশজুড়ে পরিচিত এই তরুণ ছাত্রনেতা।
এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সব ব্রেকিং নিউজ ও বস্তুনিষ্ঠ আপডেট সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |