যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তেহরানের বিশিষ্ট ভূ-রাজনীতি গবেষক আলী আকবর দারেয়িনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানিয়েছেন।
তাঁর মতে, কাগজে-কলমে এখন দুই দেশের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি অবশিষ্ট নেই; বরং ভেতরে ভেতরে ইতোমধ্যে একটি ছায়াযুদ্ধ বা ছোটখাটো যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনারা বারবার আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিয়ম ভঙ্গ করার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
গবেষক আলী আকবর দারেয়িনি জানান, পারস্য উপসাগর এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত সহজ ও যৌক্তিক ৩টি নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। নিয়মগুলো হলো:
১. নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার: যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে ইরানের দেখানো নির্দিষ্ট পথ (লারাক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশ করে দক্ষিণ দিক দিয়ে বের হওয়া) ব্যবহার করতে হবে। ২. পরিষেবা ফি প্রদান: প্রণালী পারাপার এবং ইরানের দেওয়া বিভিন্ন সামুদ্রিক সেবার জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। ৩. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: জাহাজে এমন কোনো বিপজ্জনক মালামাল, অবৈধ ড্রোন বা সামরিক অস্ত্র থাকা চলবে না যা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে।
বর্তমানে এই নিয়মগুলো মেনে প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২০ থেকে ৩০টি বাণিজ্যিক ও কার্গো জাহাজ ওই এলাকা দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করছে।
ইরানের অভিযোগ, তেহরান যাতে এই সামুদ্রিক নিয়মগুলো চালু রাখতে না পারে, সেজন্য মার্কিন নৌবাহিনী ও মার্কিন সেনারা পারস্য উপসাগরে ইচ্ছা করে উসকানি ও ঝামেলা তৈরি করছে। আর এ কারণেই দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে।
ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সেনাদের এই আধিপত্যবাদ বা দাদাগিরি তারা কোনোভাবেই মুখ বুজে সহ্য করবে না। এর জন্য যদি মধ্যপ্রাচ্যে বড় কোনো যুদ্ধও বেঁধে যায়, তবে ইরান তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ইরানের চূড়ান্ত আলটিমেটাম। তেহরানের অবস্থান এখন অত্যন্ত পরিষ্কার—আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের উৎপাদিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করতে না পারে, তবে তারা এই অঞ্চলের (যেমন: সৌদি আরব, ইউএই, কুয়েত) অন্য কোনো দেশকেও হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে তেল বিক্রি বা রপ্তানি করতে দেবে না।
"যদি ওয়াশিংটন আমাদের তেল অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চায়, তবে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার জবাব আমরা সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ করেই দেব।" — তেহরানের সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হবে, যা পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক মহাবিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি, মার্কিন-ইরান সংঘাত, হরমুজ প্রণালীর সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারের সব ব্রেকিং নিউজ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |