| বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সেনাকুঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-06-2026 ইং
  • 8302 বার পঠিত
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সেনাকুঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমান

মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার গৌরবই সেনাবাহিনীর অনন্ত প্রেরণা: শান্তিরক্ষী দিবসে প্রধানমন্ত্রী

প্রতিরক্ষা প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যে অভূতপূর্ব কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “দেশের এই অনন্য গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেটি শক্ত হাতে রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য ও দায়িত্ব।”

আজ বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিশ্বশান্তিতে নারী সদস্য ও হাইতি মিশনের ঘোষণা

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের গৌরবময় পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি জাতিসংঘ মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৯টি মিশনে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। খুব শীঘ্রই হাইতিতে নতুন একটি মিশনে বাংলাদেশ দলের যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যের সাহসী অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নারী সদস্যদের এই সাহসী সক্রিয়তা বিশ্বশান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এক গৌরবময় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”

সেনাবাহিনীর একজন মেজরই স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন

সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন—বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এই গৌরবকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বাহিনীর কঠোর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডের ওপর বিশেষ জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে দেশের সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে (পিলখানা হত্যাকাণ্ড) সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতসহ সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র সফলভাবে মোকাবেলা করে বাহিনীকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য।”

সাইবার যুদ্ধ ও প্রযুক্তির বিবর্তন মোকাবিলা

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির আধুনিক বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রথাগত যুদ্ধের বাইরে এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার, আন্তর্জাতিক মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবসময় অন্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। সংবিধানে ব্যক্ত হওয়া বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহ-অবস্থানের প্রতি দেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের সম্মাননা প্রদান

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় শাহাদাতবরণকারী ৬ সেনা সদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা ও অনুদান তুলে দেন। ওই হামলাসহ সম্প্রতি বিভিন্ন চলমান মিশনে বীরত্বের সাথে দায়িত্ব পালনকালে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা মেডেল তুলে দেন তিনি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া লাইভ সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টামণ্ডলী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, পুলিশের শীর্ষনেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনীতিক ও সামরিক প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency