আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬
যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে বিশ্বজুড়ে বর্তমানে অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বর্তমান পৃথিবীর প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে ১ জনই নিজের চেনা চেনা ঘরবাড়ি ও মাতৃভূমি ছেড়ে প্রাণভয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সর্বশেষ গ্লোবাল ট্রেন্ডস প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের মোট সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। দীর্ঘ সংঘাত শেষে নিজ নিজ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিপুল সংখ্যক শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) মানুষের স্বদেশে ফেরার হার বেড়ে যাওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।
তবে ২০২৫ সালের সেই স্বস্তির সুবাতাস ২০২৬ সালের শুরুতেই ম্লান হয়ে গেছে। চলতি ২০২৬ সালে এসে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং ইরান-লেবাননে নতুন করে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাত বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে লেবানন ও ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে লাখ লাখ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সামগ্রিক চিত্রটি নিচে দেওয়া হলো:
৬ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ: যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে নিজ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) হয়েছেন।
২ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ: ইউএনএইচসিআর-এর সরাসরি আওতাভুক্ত নিবন্ধিত শরণার্থী।
৯০ লাখ মানুষ: আন্তর্জাতিকভাবে আশ্রয়প্রার্থী (অ্যাসাইলাম সিকার)।
৭২ লাখ মানুষ: যাদের এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।
৬০ লাখ মানুষ: ফিলিস্তিনি শরণার্থী, যারা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর অন্তর্ভুক্ত।
ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের মোট শরণার্থীর সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষ এসেছে মাত্র সাতটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশ থেকে—
| দেশের নাম | শরণার্থীর সংখ্যা |
| ভেনেজুয়েলা | ৬৪ লাখ |
| ফিলিস্তিন | ৬০ লাখ |
| ইউক্রেন | ৫২ লাখ |
| সিরিয়া | ৪৯ লাখ |
| আফগানিস্তান | ৩৭ লাখ |
| সুদান | ২৮ লাখ |
| দক্ষিণ সুদান | ২৪ লাখ |
বিশ্বের মোট শরণার্থীর এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়ে মাত্র সাতটি দেশে বসবাস করছেন। মানবিক কারণে সবচেয়ে বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া দেশগুলো হলো—
| আশ্রয়দাতা দেশের নাম | আশ্রিত শরণার্থীর সংখ্যা |
| কলম্বিয়া | ২৮ লাখ (বেশিরভাগ ভেনেজুয়েলা থেকে আসা) |
| জার্মানি | ২৭ লাখ (ইউক্রেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা) |
| তুরস্ক | ২৪ লাখ (অধিকাংশই সিরীয় নাগরিক) |
| উগান্ডা | ১৯ লাখ |
| ইরান | ১৭ লাখ (প্রায় সবাই আফগান নাগরিক) |
| চাদ | ১৫ লাখ |
| পাকিস্তান | ১৩ লাখ (প্রায় সবাই আফগান নাগরিক) |
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন এমন প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষই নিজের দেশের সীমান্ত সংলগ্ন প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রথম আশ্রয় নিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও লেবানন ঘিরে চলমান বর্তমান যুদ্ধাবস্থা এই শরণার্থী সংকটকে আগামী দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |