নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬
বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ (পুশইন), সীমান্ত হত্যা এবং পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে রাজধানী ঢাকায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণঅধিকার পরিষদ (ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ)।
গত বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টায় বিজয়নগরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ (আল রাজী কমপ্লেক্স)-এর সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি আল রাজী কমপ্লেক্সের সামনে থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন মোড় ও জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কি মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে, কোনো বিশেষ দেশের দাসত্ব বা তাবেদারি করার জন্য নয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বর্বরোচিত সীমান্ত হত্যা অবিলম্বে সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এদেশের সাধারণ জনগণ ভারত সরকারের এই আগ্রাসী মনোভাব কখনো সমর্থন করে না।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা এবং উসমান হাদীর খুনিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং লাওস মিলে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে মরণনেশা ইয়াবার প্রসার ঘটিয়েছে এবং মাদক পাচারের রুট হিসেবে মিয়ানমারকে ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় যুবসমাজকে ধ্বংস করতেই সীমান্ত গলিয়ে মাদকপাচার করছে ভারত। আমরা দেশের জনগণ, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করবে গণঅধিকার পরিষদ।”
দলের মুখপাত্র ফারুক হাসান প্রতিবেশীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এখন ভারতকে বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি নিয়ে আগের মতো চিন্তা করলে হবে না। কারণ এখন বাংলাদেশে তাদের কোনো পুতুল বা আজ্ঞাবহ সরকার ক্ষমতায় নাই। ভারত যদি এদেশের মাটিতে কোনো রাজনৈতিক চাল চালতে চায় কিংবা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে চায়, তবে সবার আগে প্রধান অপরাধী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই—সীমান্তে আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অতীত গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য বিজিবির পূর্বের নাম ‘বিডিআর’ (বাংলাদেশ রাইফেলস) পুনঃবহাল করা হোক।”
সমাবেশে দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ সীমান্তে অস্থিরতার নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে বলেন, “সীমান্ত দিয়ে পুশইন বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করার নামে ভারত মূলত এমন একটা কৃত্রিম সংকট ও পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যাতে বর্তমান সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক নেগোসিয়েশন করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে আবার পুনর্বাসন করা যায়।”
তথ্য ও পরিসংখ্যানের বরাতে তিনি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে বলেন, “বর্তমানে দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ীই বাংলাদেশে ভারতের ৮ হাজারেরও বেশি অবৈধ নাগরিক রয়েছে, যদিও বাস্তবে এই সংখ্যা কয়েক লাখ। এরা শুধু আমাদের দেশে অবৈধভাবে কাজ করে কোটি কোটি টাকা পাচার করছে না, বরং তারা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে গুপ্তচরবৃত্তি করছে। এরা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। তাই অবিলম্বে এদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা দক্ষিণের সাবেক সভাপতি নাজিমউদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম, আব্দুজ জাহের, মাহফুজুর রহমান খান, হাবিবুর রহমান রিজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট খালিদ হাসান এবং সহ-প্রচার সম্পাদক আশরাফুল।
এছাড়াও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান, সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম এবং শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমানসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |