| বঙ্গাব্দ

ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল | মার্কিন-ইরান চুক্তি ১৯ জুন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-06-2026 ইং
  • 6953 বার পঠিত
ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল | মার্কিন-ইরান চুক্তি ১৯ জুন
ছবির ক্যাপশন: মার্কিন-ইরান চুক্তি ১৯ জুন

ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নাকি গালফ কোয়ালিশনের বিনিয়োগ? ট্রাম্পের ‘ভালো চুক্তি’র পর পরবর্তী ৬০ দিনের কঠিন অগ্নিপরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল বৈশ্বিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দেওয়া দীর্ঘ তিন মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানের অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) দুই পক্ষ ডিজিটাল মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করে। তবে মার্কিন প্রশাসন শুরুতেই অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই বিশাল বিনিয়োগ তহবিলটি কোনোভাবেই ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের কোনো প্রত্যক্ষ আর্থিক পুরস্কার বা মূল্য পরিশোধ (Compensation) নয়।

মার্কিন অর্থ যাবে না, ফ্রিজ থাকা সম্পদও অবমুক্ত হচ্ছে না: জেডি ভ্যান্স

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ (CBS News)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) এই তহবিলের আসল রূপরেখা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এই আর্থিক প্রণোদনা সম্পূর্ণভাবে চুক্তির কঠোর শর্তাবলি পালনে ইরানের ‘পারফরম্যান্স’ বা মাঠ পর্যায়ের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেন, “আমেরিকার সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের কোনো অর্থ সরাসরি ইরানে যাবে না এবং আমেরিকার ব্যাংকে ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ থাকা সম্পদ এখনই অবমুক্ত করার খবরটিও সম্পূর্ণ সঠিক নয়। মূলত এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের মেগাতহবিলটি যৌথভাবে গঠন করবে পারস্য উপসাগরীয় উপকূলীয় জোট বা ‘গালফ কোস্ট কোয়ালিশন’ (Gulf Coast Coalition) এবং এটি মূলত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নামী বেসরকারি কোম্পানির সরাসরি বিনিয়োগের (FDI) মাধ্যমে পরিচালিত হবে।”

ভূ-রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ফেলো মুহানাদ সেলুম ওয়াশিংটনের এই কৌশলকে একটি ‘উইন-উইন’ (Win-Win) বা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “ইরান যদি নিজেকে সংশোধন করে চুক্তির পথে হাঁটে, তবে এই বৈশ্বিক শান্তির কৃতিত্ব পাবে ট্রাম্প প্রশাসন। আর যদি তারা মাঝপথে চুক্তি ভঙ্গ করে, তবে আমেরিকার কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না; কারণ পুরো অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও ঝুঁকির দায় থাকবে ধনী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর।”

১৯৪২ সালের পর সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি বনাম ২৪ বিলিয়নের দাবি

বিগত তিন মাসের প্রলয়ংকরী যুদ্ধে ইরানে আনুমানিক ২৯ বিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং মার্কিন অবরোধের কারণে দেশটির সাধারণ মানুষ ১৯৪২ সালের পর (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল) সর্বোচ্চ ও নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতির (Hyperinflation) মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এই চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রস্তাবিত তহবিল ইরানের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির জন্য একটি বড় ‘লাইফলাইন’ হতে পারে।

তবে তহবিলের উৎস নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের তথ্যের বড় অমিল দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘মেহর নিউজ’ (Mehr News) জোর দাবি করেছে, দুই পক্ষের সই করা চুক্তির ১৪ দফা গোপন খসড়ায় আমেরিকার হাতে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের নিজস্ব ২৪ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সম্পদ অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার স্পষ্ট কথা বলা হয়েছে। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই দাবি শুরুতেই পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পরবর্তী ৬০ দিনের কঠিন রোডম্যাপ ও ইসরাইলি বাধা

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার পর বেশ কিছু জটিল, স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ পরবর্তী ৬০ দিন ধরে অত্যন্ত কঠিন আলোচনা ও দরকষাকষি চালিয়ে যাবে। এই আলোচনার প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—ইরানের কাছে মজুদ থাকা ৪৪০ কেজির বেশি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করা, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের নিয়মিত ও বাধাহীন পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের করিডোর বিতর্কিত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত ও নিরাপদভাবে উন্মুক্ত করা।

একই সাথে লেবাননে চলমান ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসন ও বোমাবর্ষণ বন্ধের বিষয়টিও এই শান্তি আলোচনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্র হিজবুল্লাহ ও লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানালেও, তেল আবিব বা ইসরাইল ইতোমধ্যে মার্কিন চাপ সত্ত্বেও সেই যুদ্ধবিরতির দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

এই ঐতিহাসিক চুক্তি নিয়ে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই চুক্তি সাময়িকভাবে ইরানের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে, তবে তেহরান অতীতে আমেরিকার ‘চুক্তি ভঙ্গের’ কুৎসিত ইতিহাস ও ওবামা আমলের জেসিপিওএ (JCPOA) চুক্তি থেকে ট্রাম্পের বের হয়ে যাওয়ার ঘটনা ভুলে যায়নি।

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, “আমেরিকার প্রকৃত প্রতিশ্রুতি এবং তারা মুখে যা বলছে তা কাজে করে কি না—সেটি পরীক্ষা করার জন্যই কেবল ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (SNSC) এই চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে।”

অন্যদিকে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষ জোট জি-৭ (G7) সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে নিজের একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় দাবি করে একে ‘ন্যায্য ও ভালো চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে একই সাথে ইরানকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ার করে ট্রাম্প বলেন, “এই চুক্তির মূল কথাই হলো—ইরান কখনোই, কোনো পরিস্থিতিতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।” কাতারসহ বিশ্বের অন্যান্য বৈশ্বিক নেতারা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির আশা প্রকাশ করেছেন

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency