বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান ঐতিহাসিক সমঝোতা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রেক্ষিতে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে ইসরাইলি সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে বাধ্য করায় তেহরানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির দাবি, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই চুক্তির প্রথম এবং সবচেয়ে মৌলিক শর্ত হিসেবেই ইসরাইল লেবাননে তাদের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
হিজবুল্লাহর সাধারণ সম্পাদক শেখ নাঈম কাসেম তেহরানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ পরমাণু আলোচনাকারী ড. মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের কাছে পাঠানো এক বিশেষ আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপি (AFP) হিজবুল্লাহর প্রকাশিত বার্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চিঠিতে নাঈম কাসেম উল্লেখ করেছেন:
"আপনারা লেবানন ও ফিলিস্তিনের ওপর চলা ইসরাইলি-আমেরিকান আগ্রাসন বন্ধের একমাত্র কার্যকর আশার আলোকে বাস্তবে রূপান্তর করেছেন। আপনারা বিশ্বকে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, ইরানই হচ্ছে সত্য ও প্রতিরোধের আসল চ্যাম্পিয়ন।"
হিজবুল্লাহ প্রধান তার চিঠিতে ইরানের দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইরান সব সময় হিজবুল্লাহ, প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং লেবাননের জনগণকে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে নিজেরা রাজনৈতিক বা কৌশলগত কোনো সুবিধাই নেয়নি। তেহরান লেবাননকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে এবং নিজেদের ভূমি মুক্ত করার পাশাপাশি যুদ্ধের ক্ষত নিরাময় ও সমাজ পুনর্গঠনে শক্তি জুগিয়েছে।
চিঠিতে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে (দাহিয়েহ) ইসরাইলি বর্বর বোমা হামলার জবাবে ইরান যেভাবে সরাসরি জায়নবাদী সত্তার ওপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, সেই সাহসিকতার কথাও স্মরণ করা হয়। ব্যাপক ত্যাগ ও যুদ্ধের চরম ঝুঁকি মাথায় নিয়ে লেবাননের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইরানকে ‘গর্ব ও সম্মানের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন নাঈম কাসেম।
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতা স্মারক (MOU) অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি এবং ওমান সংলগ্ন কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। হিজবুল্লাহও সোমবার থেকে ইসরাইলের ওপর সব ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স ও আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তি নিয়ে এখনো বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রশাসন দাবি করছে, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘লেবানন ফ্রন্ট’ অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "ট্রাম্পের এই চুক্তি ইসরাইলকে দায়বদ্ধ করে না" এবং হিজবুল্লাহকে নির্মূল করতে দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান ও সেনা উপস্থিতি বজায় থাকবে। তবে ইরান ও হিজবুল্লাহ শিবির এই চুক্তিকে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের একটি পূর্বশর্ত বা সূচনা হিসেবেই দেখছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| ধন্যবাদজ্ঞাপনকারী | শেখ নাঈম কাসেম (সাধারণ সম্পাদক, হিজবুল্লাহ) |
| প্রাপক | মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (পার্লামেন্ট স্পিকার, ইরান) |
| মূল দাবি | ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির কারণে সব ফ্রন্টে ইসরাইলি হামলা বন্ধ বাধ্য হয়েছে |
| ইরানের ভূমিকা | লেবাননের পাশে দাঁড়িয়ে ‘গর্ব ও সম্মানের প্রতীক’ হওয়া |
| বর্তমান পরিস্থিতি | হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধ; তবে ইসরাইল চুক্তি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |