| বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প-ইরান চুক্তি জটিলতায় ক্রিপ্টো বাজারে ধস, বিটকয়েন ৬২,৭০০ ডলারে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-06-2026 ইং
  • 13330 বার পঠিত
ট্রাম্প-ইরান চুক্তি জটিলতায় ক্রিপ্টো বাজারে ধস, বিটকয়েন ৬২,৭০০ ডলারে
ছবির ক্যাপশন: ক্রিপ্টো বাজারে ধস

৩৩০ মিলিয়ন ডলারের লং পজিশন লিকুইডেশন! বৈশ্বিক অস্থিরতায় ইথেরিয়াম ও সোলানারও বড় দরপতন

অর্থনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হতে বিলম্ব, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) কঠোর বা ‘হকিশ’ নীতিগত অবস্থানের দ্বিমুখী ধাক্কায় সপ্তাহের শেষ দিন শুক্রবারও (১৯ জুন) তীব্র মন্দা ও চাপের মুখে পড়েছে বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার। বড় মূলধনী ডিজিটাল সম্পদগুলোর লাগাতার দরপতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম সতর্কতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘কয়েনমার্কেটক্যাপ’ (CoinMarketCap)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন (Bitcoin) গত ২৪ ঘণ্টায় ২.২১ শতাংশ মূল্য হারিয়ে প্রায় ৬২,৭০০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। ভারতীয় বাজারে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯.২৭ লাখ রুপি।

ইথেরিয়াম ও অল্টকয়েন বাজারেও রক্তক্ষরণ

বিটকয়েনের এই আকস্মিক পতনের চেইন-ইফেক্ট বা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টো ইথেরিয়ামসহ অন্যান্য জনপ্রিয় ‘অল্টকয়েন’ (Altcoins)-এর ওপরও। পুরো ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে বর্তমানে এক প্রকার দুর্বলতা ও স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে:

  • ইথেরিয়াম (ETH): মূল্যের বড় পতনে ১,৭০০ ডলারে নেমে এসেছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৬০ লাখ রুপি।

  • বিএনবি (BNB): আন্তর্জাতিক বাজারে এটি বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে প্রায় ৫৭৫.৩১ ডলারে।

  • সোলানা (SOL): তুলনামূলক বেশি দর হারিয়ে এর বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮.৬৪ ডলার।

  • এক্সআরপি (XRP): বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি কয়েন প্রায় ১.১৩ ডলার।

  • ডোজকয়েন (DOGE): মেমে কয়েনটি ধসে গিয়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ০.০৮৩ ডলারে।

চুক্তি বিলম্ব ও ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল লিকুইডেশন

বিশ্বখ্যাত ক্রিপ্টো বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘মাডরেক্স’ (Mudrex)-এর প্রধান কোয়ান্ট বিশ্লেষক অক্ষত সিদ্ধান্ত বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকটি (MOU) শুরুতে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক হাওয়া এনেছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব এবং বিশেষ করে লেবানন ও ইসরাইলকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ (Risk Appetite) সম্পূর্ণ কমিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ফিউচার মার্কেটে মাত্র একদিনের ব্যবধানে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি বা ‘লং পজিশন’ লিকুইডেশন (বাধ্যতামূলক বিক্রি) হয়েছে, যা ক্রিপ্টো বাজারকে আরও বেশি নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ফেডের কড়া বার্তা ও এআই লিস্টিংয়ের প্রভাব

ক্রিপ্টো বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘কয়েনসুইচ মার্কেটস ডেস্ক’ (CoinSwitch) জানিয়েছে, নতুন ফেড চেয়ারম্যানের অধীনে প্রথম এফওএমসি বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও তাদের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে (Dot Plot) স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে—চলতি বছর বাজারে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম সুদের হার কমানো হবে। ফেডের এই কড়া বা ‘হকিশ’ অবস্থান নিরাপদ বিনিয়োগ বন্ডের দিকে মূলধন টানছে।

এর পাশাপাশি, সিলিকন ভ্যালির দুই টেক জায়ান্ট ওপেনএআই (OpenAI) এবং অ্যানথ্রপিক (Anthropic)-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আসন্ন পাবলিক বাজার তালিকাভুক্তি বা লিস্টিংয়ের খবর ক্রিপ্টো বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। অনেক বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তাদের মূলধন ক্রিপ্টো বাজার থেকে সরিয়ে ওইসব এআই (AI) খাতের আইপিও-তে স্থানান্তর করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা ডিজিটাল মুদ্রার তারল্য কমিয়ে দিচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বিটকয়েনের লক্ষ্যমাত্রা

এই চরম অস্থির সময়ে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘জিওটাস ডটকম’ (Giottus.com)-এর প্রধান নির্বাহী বিক্রম সুব্বুরাজ বিনিয়োগকারীদের কঠোরভাবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার (Risk Management) পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান বাজার মূলত বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি এবং ক্রিপ্টো স্পট ইটিএফ (ETF)-এ নতুন অর্থ প্রবাহের ওপর গভীরভাবে নির্ভর করছে। এই অবস্থায় কোনোভাবেই অতিরিক্ত ঋণ বা মার্জিন লোন নিয়ে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিং পজিশন নেওয়া ঠিক হবে না। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের চাহিদা বাজারে স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে বা এসআইপি (SIP) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

স্বল্পমেয়াদী পূর্বাভাস: বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিটকয়েনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় লাইফলাইন বা সাপোর্ট জোন হলো ৬২,২০০ থেকে ৬২,৮০০ ডলার মূল্যসীমা। কোনো কারণে বিটকয়েন এই মূল্যসীমা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে দাম আরও বড় পতনের মুখে পড়বে। তবে যদি এটি সফলভাবে ৬৪,৭০০ থেকে ৬৬,০০০ ডলারের শক্তিশালী প্রতিরোধসীমা (Resistance Level) ভেঙে ওপরে উঠতে পারে, তবেই বাজারে আবার নতুন করে বুলিশ বা ইতিবাচক ট্রেন্ড ফিরে আসতে পারে।

এক নজরে আজকের ক্রিপ্টো বাজার সূচক (১৯ জুন, ২০২৬)

ক্রিপ্টোকারেন্সিআন্তর্জাতিক মূল্য (ইউএস ডলার)ভারতীয় মূল্য (রুপি)গত ২৪ ঘণ্টার প্রবণতা
বিটকয়েন (BTC)~$৬২,৭০০ ডলার~৫৯.২৭ লাখ রুপি২.২১% হ্রাস
ইথেরিয়াম (ETH)~$১,৭০০ ডলার~১.৬০ লাখ রুপিসামগ্রিক নিম্নমুখী
সোলানা (SOL)~$৬৮.৬৪ ডলারমন্দা ভাব
বিএনবি (BNB)~$৫৭Events.৩১ ডলারনিম্নমুখী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ক্রিপ্টো বাজারের প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency