আন্তর্জাতিক ও উত্তর আমেরিকা ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
ইরানের সাথে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে সম্পাদিত হওয়া ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে যারা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জলঘোলা ও তীব্র সমালোচনা করছেন, তাদের এই চুক্তি ও ভূ-রাজনীতি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা বা ‘শিক্ষিত’ (Educated) হওয়া প্রয়োজন বলে এক চরম কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির হেভিওয়েট সিনেটর টেড ক্রুজের ক্রমাগত কঠোর সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প এই কড়া মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত আলাপকালে ট্রাম্প ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে তাঁর প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "রাজনীতিতে আমার অত্যন্ত ভালো বন্ধু হলেও যারা এই মুহূর্তে এই ঐতিহাসিক চুক্তির চুলচেরা সমালোচনা করছেন, আমি মনে করি তাদের বিষয়টি সম্পর্কে বাস্তবমুখী ও আরও ভালোভাবে বিশদ পড়াশোনা করতে হবে। কারণ অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে ইরানকে আমরা আজ এমন এক শক্ত ও নতজানু অবস্থানে নিয়ে এসেছি, যেখানে আমেরিকার বিগত কোনো প্রশাসন কখনো যাওয়ার সাহস বা সামর্থ্য দেখায়নি।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতাকে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের ‘সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে প্রচার করলেও, ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলের কংগ্রেস ভবনে এই নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই একযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া এই অত্যন্ত সংবেদনশীল মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) সম্পর্কে মার্কিন কংগ্রেসকে এখনো পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
ক্যাপিটাল হিলের বেশ কয়েকজন কট্টর রিপাবলিকান সদস্যও প্রেসিডেন্টের এমন একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইনপ্রণেতাদের মূল অভিযোগ হলো, চুক্তির ভেতরে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের বিষয়গুলো সম্পর্কে কংগ্রেসকে কোনো ধরনের বিস্তারিত ব্রিফিং (Classified Briefing) দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত পুরো কংগ্রেসের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক বা যৌথ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেনি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা টিম।
রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী সিনেটর টেড ক্রুজ শুরু থেকেই এই সমঝোতার কয়েকটি বিশেষ দিক নিয়ে তীব্র আপত্তি ও খোলাখুলি বিরোধিতা জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় বৈধভাবে সীমিত আকারে খনিজ তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া এবং স্বল্পমেয়াদে তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনার কড়া বিরোধিতা করছেন এই টেক্সাসের সিনেটর।
গত সপ্তাহে ক্যাপিটল হিলে দেওয়া এক আবেগঘন ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যে টেড ক্রুজ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, "ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, আমেরিকার ক্ষতি করতে চায় বা বিশ্বশান্তি বিনষ্ট করতে চায় এমন একটি ধর্মতান্ত্রিক উগ্র শাসকগোষ্ঠীকে (Theocratic Regime) এভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত আত্মঘাতী ও খারাপ একটি সিদ্ধান্ত।" তিনি আরও দাবি করেন, এই জটিল চুক্তির বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রধান সামরিক উপদেষ্টা পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর পরামর্শ পাচ্ছেন। ক্রুজের ভাষ্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট, "আমি কোনো অবস্থাতেই চাই না ইরানের আয়াতুল্লাহ সরকারের পকেটে যুক্তরাষ্ট্রের বা আন্তর্জাতিক বিশ্বের একটা সিঙ্গেল পয়সাও যাক।"
ইরানকে ঘিরে হওয়া নতুন এই ভূ-কৌশলগত সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ডার্টি পলিটিক্স ও রাজনৈতিক বিতর্ক দিন দিন ক্রমেই আরও তীব্র ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠছে। একদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আধিপত্য বিস্তারের এক অভাবনীয় কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনেক সদস্য চুক্তির গোপন শর্ত, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং এর ফলে ইরানের রাতারাতি অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়ে পুনর্গঠিত হওয়া নিয়ে বড় ধরনের জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্ন তুলছেন। ফলে হোয়াইট হাউসের কাছে এই বিতর্কিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আইনি অনুলিপি প্রকাশ এবং কংগ্রেসকে অবিলম্বে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার জোরালো দাবি চারদিক থেকে ক্রমেই আরও জোরদার হয়ে উঠছে।
| মূল রাজনৈতিক পক্ষ | প্রধান অবস্থান ও আপত্তির খাতসমূহ |
| প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | সমালোচকদের ‘অশিক্ষিত’ আখ্যা; দাবি করেন ইরানকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চাপে ফেলা হয়েছে। |
| সিনেটর টেড ক্রুজ (রিপাবলিকান) | তেল বিক্রির সুযোগ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের তীব্র বিরোধিতা; আয়াতুল্লাহদের অর্থ দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান। |
| কংগ্রেস আইনপ্রণেতা (যৌথ) | ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক চুক্তির মূল খসড়া গোপন রাখার অভিযোগ; জরুরি ব্রিফিংয়ের দাবি। |
| বিতর্কিত মূল বিষয় | ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইরানকে দেওয়া আংশিক বাণিজ্যিক ছাড়। |
মার্কিন সিনেটে ইরান চুক্তির ওপর সম্ভাব্য ভোটাভুটি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ের তারিখ, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বৈশ্বিক তেলের বাজারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |