| বঙ্গাব্দ

রাহুলের ‘আউটসাইডার’ প্রীতি; কংগ্রেসে পুরনো বনাম নতুনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-07-2026 ইং
  • 7889 বার পঠিত
রাহুলের ‘আউটসাইডার’ প্রীতি; কংগ্রেসে পুরনো বনাম নতুনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ
ছবির ক্যাপশন: রাহুল

ইউপি ইনচার্জ পদে রাজেন্দ্র পাল গৌতমের নিয়োগে স্তব্ধ হেভিওয়েটরা; সংস্কার নাকি নতুন সুবিধাবাদী বলয় তৈরি করছেন রাহুল?

নয়া দিল্লি ও ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষণ ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬

ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেসের অন্দরে লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যের আবহেই এক নতুন ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পর্বেই দলের ভেতর থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে—তিনি কংগ্রেসের খাঁটি, মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের চেয়ে ‘বাইরের মানুষ’ বা ‘আউটসাইডার’দের সঙ্গে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। রাহুলের এই বিশেষ ‘বহিরাগত প্রীতি’ এবং দল পরিচালনায় নিজস্ব একচেটিয়া বলয় তৈরির প্রবণতা এখন এআইসিসি (AICC) থেকে শুরু করে প্রতিটি রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেসের ত্যাগী কর্মীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশের মসনদে আপ-এর সাবেক দলিত নেতা

কংগ্রেসের ভেতরের এই অভ্যন্তরীণ ফাটল ও ক্ষোভের সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও জ্বলন্ত উদাহরণ হলেন আম আদমি পার্টির (AAP) সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও দলিত অ্যাক্টিভিস্ট রাজেন্দ্র পাল গৌতম। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই নবাগত নেতাকে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি রাজ্য উত্তরপ্রদেশের ‘এআইসিসি ইনচার্জ’ (AICC Incharge) হিসেবে হাই-প্রোফাইল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রবীণ নেতা অবিনাশ পান্ডের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

গৌতম একই সঙ্গে বর্তমানে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় তফসিলি জাতি (SC) বিভাগেরও প্রধান। রাহুল গান্ধীর দীর্ঘদিনের সামাজিক ন্যায়বিচার ও দলিত ভাবমূর্তি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই দলবদলু নেতাকে উত্তরপ্রদেশের মতো বিশাল রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের বহু প্রবীণ ও হেভিওয়েট নেতাকে আক্ষরিক অর্থেই স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ করে দিয়েছে।

কংগ্রেসের রাজনৈতিক ইতিহাসে উত্তরপ্রদেশ কোনো সাধারণ রাজ্য নয়। এটি সেই পবিত্র মাটি যেখানে একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল, যেখানে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের রাজনীতি একসময় প্রশ্নহীন গণ-বৈধতা পেয়েছিল। ২০১৯ সালেও যখন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আনুষ্ঠানিকভাবে এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে আসেন, তখন তাকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মতো মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর আজ, সেই ঐতিহাসিক রাজ্যে দলটির প্রধান চালিকাশক্তি করা হয়েছে রাজেন্দ্র পাল গৌতমকে—যিনি কংগ্রেসে একেবারেই একজন নবাগত এবং এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক বা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) কোনো হেভিওয়েট নেতাও নন।

ঘরের পরিশ্রান্ত মানুষের চেয়ে নব্য দীক্ষিত ‘আউটসাইডার’ শ্রেয়?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ নয়, এটি আসলে রাহুল গান্ধীর পক্ষ থেকে দলের ভেতরের পুরনো সিন্ডিকেটকে দেওয়া একটি পরিষ্কার ও কড়া বার্তা। রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন যে, কংগ্রেসের পুরনো ও ঘুণে ধরা সাংগঠনিক কাঠামোর ভবিষ্যৎ কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার বা বংশগত উত্তরাধিকারের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি আরও বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে—মতাদর্শিক অবস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, দলিতদের কাছে পৌঁছানো এবং বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে তীব্র লড়াকু মানসিকতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো পরিশ্রান্ত ‘ইনসাইডার’ বা ঘরের মানুষের চেয়ে একজন নব্য দীক্ষিত ‘আউটসাইডার’কে অনেক বেশি বিশ্বাস করেন।

প্রশ্ন উঠেছে, এটি রাহুলের রাজনৈতিক সাহসিকতা, নাকি সিদ্ধান্তহীনতার বিভ্রান্তি, নাকি নতুন এক ধরনের কোটারি বা বলয় কেন্দ্রিক ক্ষমতা জাহির করার রাজনীতি?

কেন পুরনো নেতাদের বিশ্বাস করতে পারেন না রাহুল?

রাহুল গান্ধীর এই আউটসাইডার প্রীতির পেছনে একটি দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। ২০০৪ সালে তিনি যখন সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন তার চারপাশে ছিল পুরনো সনাতনী কংগ্রেসের এক বিশাল ও জটিল বহর—জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী লর্ড, উপদলীয় কোন্দলের ওস্তাদ পরিচালক, গান্ধী পরিবারের পুরোনো অন্ধ অনুগত, প্রদেশ কংগ্রেসের বলিষ্ঠ প্রবীণ দলনেতা এবং দিল্লির লবিস্ট বা মধ্যস্থতাকারী; যারা দলের পুনরুজ্জীবনের চেয়েও নিজেদের ব্যক্তিগত আখের গোছাতে ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।

তাদের অনেকেই রাহুলকে একজন যোগ্য ‘নেতা’ হিসেবে না দেখে কেবল ‘গান্ধী পরিবারের উত্তরাধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করতেন। তারা ক্যামেরার সামনে বা প্রকাশ্যে চরম আনুগত্য দেখালেও গোপনে ছিলেন চরম অবজ্ঞাপূর্ণ এবং সর্বদা সুযোগসন্ধানী। ফলে রাহুল কেন তাদের প্রতি চরম সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠবেন, তা বোঝা মোটেও কঠিন নয়। রাহুলের চোখে, এই পুরনো খোলসের কংগ্রেস মানেই হলো ক্ষমতার স্বার্থে বিজেপির সঙ্গে আপস, উচ্চবর্ণের আধিপত্য বজায় রাখা এবং বিজেপির উগ্র হিন্দুত্বের বিপরীতে কাউন্টার হিসেবে ‘নরম হিন্দুত্ব’ (Soft Hindutva) নিয়ে রাজনীতি করা।

অন্যদিকে, বাইরের মানুষেরা রাহুলের কাছে কংগ্রেসের এই ক্ষয়িষ্ণু, সুবিধাবাদী সংস্কৃতির দ্বারা কলুষিত নন বলে মনে হয়। ঠিক এই কারণেই শশীকান্ত সেন্থিল, শচীন রাও, কৃষ্ণ আল্লাভারু, কে রাজু, প্রবীণ চক্রবর্তী, অলংকার সাওয়াই, কে বি বাইজু এবং কনিষ্ক সিংয়ের মতো ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে রাহুলের ক্ষমতা-বলয়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।

রাহুলের ‘অনির্বাচিত’ নীতিনির্ধারক টিম

রাহুলের এই ইনার-সার্কেলের মানুষগুলো সবাই এক প্রকৃতির নন, তবে তাদের মূল শক্তি তারা রাহুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ: ১. শশীকান্ত সেন্থিল: সাবেক আইএএস (IAS) অফিসার, যিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক ওয়ার রুমের প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন এবং পরবর্তীতে তামিলনাড়ু থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২. শচীন রাও: দলের ভেতরের প্রশিক্ষণ ও মতাদর্শ বিষয়ক মূল ব্যক্তিত্ব। ৩. কৃষ্ণ আল্লাভারু: সাবেক করপোরেট পেশাজীবী। রাহুলের যুব কংগ্রেসের হাত ধরে উঠে এসে এখন কেন্দ্রীয় বড় সাংগঠনিক কাজ সামলাচ্ছেন। ৪. কে রাজু: সাবেক আমলা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাহুলের সামাজিক ন্যায়বিচার ও কাস্ট-সেন্সাস (জাতিভিত্তিক শুমারি) প্রকল্পের মূল কারিগর। ৫. প্রবীণ চক্রবর্তী: আইআইটি ও করপোরেট ব্যাকগ্রাউন্ডের এই ব্যক্তিত্বই দলে প্রথম ডেটা অ্যানালিটিক্স, পোল স্ট্র্যাটেজি এবং পেশাদার ক্লাসের ডিজিটাল রাজনীতি নিয়ে এসেছেন। ৬. অলংকার সাওয়াই ও কে বি বাইজু: রাহুলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ইনার-অফিসের প্রধান প্রতিনিধি—যারা মূলত অ্যাপয়েন্টমেন্ট, লজিস্টিকস, ইন্টেলিজেন্স এবং শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সামলান।

অতীতের জি মোহন গোপাল, মোহন প্রকাশ বা মধুসূদন মিস্ত্রির মতো নামগুলো যোগ করলে একটি সুনির্দিষ্ট নকশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—রাহুল বারবার এমন কিছু মানুষকে বেছে নেন যারা নিজেদের ক্ষমতার জন্য কংগ্রেসের পুরনো প্রাদেশিক বা রাজ্যস্তরের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল নন; বরং তারা সরাসরি ও একমাত্র রাহুলের কাছে দায়বদ্ধ। তারা রাহুলকে সেটাই বলেন যা রাহুল শুনতে ভালোবাসেন—অর্থাৎ, যারা দলটির পতন ডেকে এনেছে তাদের ‘বাইপাস’ বা এড়িয়ে গিয়েও সম্পূর্ণ নতুন করে দল পুনর্গঠন করা সম্ভব।

লড়াইয়ের মাঠে দরকারি, পুরস্কারের মঞ্চে অদৃশ্য!

তবে কংগ্রেসের আজীবন একনিষ্ঠ ও মাটি কামড়ে পড়ে থাকা কর্মীরা এই পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বেদনাকাতর চোখে দেখেন। তাদের মতে, সমস্যাটি এমন নয় যে ঘরের মানুষেরা রাহুলকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়েছেন; বরং আসল সমস্যা হলো—রাহুল ঘরের মানুষদের সঠিক মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রাজ্য থেকে রাজ্যান্তরে এই একই ক্ষোভ বিরাজ করছে—যারা নরেন্দ্র মোদির উত্থানের পর গত ১০-১২ বছরের সবচেয়ে কঠিন ও অন্ধকার দিনগুলোতে, ইডি-সিবিআইয়ের (ED-CBI) মানসিক চাপ, বিজেপির আগ্রাসন, মতাদর্শগত আক্রমণ এবং একের পর এক শোচনীয় পরাজয়ের মধ্যেও দল ছেড়ে বা আদর্শ বিক্রি করে চলে যাননি—আজ তাদের চরম অবহেলা করা হচ্ছে।

কংগ্রেসের অনুগত কর্মীরা এক অদ্ভুত ও নির্মম অবহেলার শিকার। যখন কোনো কঠিন রাজপথের প্রতিবাদ, হাজার কিলোমিটারের পদযাত্রা, প্রত্যন্ত বুথ মিটিং, পুলিশের লাঠিচার্জ বা গ্রেফতার বরণ করার মতো কঠিন লড়াইয়ের মাঠ তৈরি হয়, তখন এই খাঁটি কর্মীদের ডাক পড়ে। কিন্তু যখন কোনো বড় পদ দেওয়া হয়, রাজ্যসভার (Rajya Sabha) টিকিট বণ্টন করা হয়, নির্বাচনি হাই-টেক ওয়ার রুম তৈরি হয় কিংবা কোনো রাজ্যের ইনচার্জ বেছে নেওয়া হয়, তখন তারা দেখেন যে মাটি বা শেকড়হীন অচেনা কিছু এয়ারকন্ডিশনড মুখ তাদের ডিঙিয়ে শীর্ষস্থানে বসে গেছে।

হরিয়ানার রাজ্যসভা নির্বাচন এই অসন্তোষকে নগ্নভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছিল। রাহুল শিবির এক প্রথাগত হেভিওয়েট হরিয়ানভি নেতাকে বাদ দিয়ে করমবীর সিং বৌদ্ধ নামের এক অপরিচিত দলিত মুখকে সমর্থন দেয়। এক নাটকীয় লড়াইয়ের পর বৌদ্ধ শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেও, এই পুরো প্রক্রিয়া দলের ভেতরের অন্তর্ঘাত, বাতিল ভোট এবং কংগ্রেস বিধায়কদের ক্রস-ভোটিংয়ের (Cross-voting) রূপকে সামনে এনেছিল। একই ফাটল দেখা গিয়েছিল মধ্যপ্রদেশেও, যেখানে একজন নিরাপদ ও অভিজ্ঞ প্রবীণ প্রার্থীর চেয়ে রাহুলের অনুগত মীনাক্ষী নটরাজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তামিলনাড়ুতে প্রবীণ চক্রবর্তীর রাজ্যসভার মনোনয়নও রাহুলের এই পেশাদার রাজনীতিরই প্রতিফলন ছিল।

এক কামরায় দুই রাহুল গান্ধী

রাজনীতি কেবল তাত্ত্বিক প্রতীকের খেলা নয়; রাজনীতি হলো সবাইকে একসঙ্গে এক কামরায় ধরে রাখার জটিল শিল্প। বাইরের মানুষেরা রাহুলকে হয়তো চমৎকার পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বা স্ট্র্যাটেজি দিয়ে মুগ্ধ করতে পারেন, কিন্তু তারা সব সময় বিধানসভায় বিধায়কদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। তারা চমৎকার কৌশলপত্র তৈরি করতে পারেন, কিন্তু জেলা সভাপতিদের মাঠের ক্ষোভ বোঝাতে পারেন না। তারা জাতপাতভিত্তিক ন্যায়বিচার, সংবিধান, ডেটা বা দল সংস্কারের আধুনিক ইংরেজি ভাষা বলতে পারেন, কিন্তু উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার ব্লক কমিটি কিংবা হরিয়ানার রোহতকের বুথ নেটওয়ার্ক আসলে কার সামাজিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—সেই বাস্তব খবর তারা রাখেন না।

আর এখানেই কংগ্রেসের চিরাচরিত ট্র্যাজেডি: রাহুল সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারেন যে পুরনো কলকব্জাগুলো ভেঙে গেছে, কিন্তু তিনি প্রায়শই এমন কিছু শেকড়হীন নতুন যন্ত্র দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করেন যার মাটির সঙ্গে কোনো সংযোগই থাকে না।

আজকের কংগ্রেসের ভেতর মূলত দুজন রাহুল গান্ধী বসবাস করেন। এক রাহুল বিকেন্দ্রীকরণ, দলিত প্রতিনিধিত্ব, যুবকদের কণ্ঠস্বর, অভ্যন্তরীণ সাহস এবং মতাদর্শিক স্পষ্টতার কথা বলেন। আর অন্য রাহুল এমন এক ক্লোজড-ডোর ব্যবস্থা পরিচালনা করেন যেখানে তার কাছে পৌঁছানোর রাস্তাটি একটি ছোট্ট বৃত্তের দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত; যেখানে জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত মাঠের নেতাদের চেয়ে অনির্বাচিত উপদেষ্টাদের বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

যদি দলের প্রতি আজীবন আনুগত্যের চেয়ে রাহুলের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈকট্যের মূল্যই বেশি হয়, তবে আসলে কিসের পুনর্গঠন চলছে?—এই একটি প্রশ্নেই এখন ভেতরে ভেতরে পুড়ছে ভারতের বৃহত্তম বিরোধী দল।

বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদক | আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া রাজনীতি বিভাগ

ভারতের সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (AICC) আসন্ন সাংগঠনিক রদবদলের খসড়া তালিকা, রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র পরবর্তী অধ্যায়ের রোডম্যাপ, উত্তরপ্রদেশ ও ২০২৬ সালের আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে সমাজবাদী পার্টির (SP) সাথে আসন সমঝোতার সর্বশেষ আপডেট এবং দিল্লির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency