আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে আঘাত হেনেছে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ০। মেক্সিকোর বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পাশাপাশি এর আশপাশের এলাকাগুলোও এই ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার ফলে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘টিআরটি ওয়ার্ল্ড’ (TRT World) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, মেক্সিকোর ‘এল প্রোগ্রেসো’ অঞ্চল থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে (Gulf of California) এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬ দশমিক ২ মাইল) গভীরে আঘাত হানে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সমুদ্রপৃষ্ঠের এই অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সমুদ্রের তলদেশে হওয়ায় স্থলভাগের উপকূলীয় শহরগুলোতে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। কম্পন শুরু হওয়া মাত্রই স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি ছেড়ে শত শত মানুষ খোলা রাস্তায় নেমে আসেন। মেক্সিকোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা উপকূলীয় এবং কাছাকাছি অঞ্চলের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য খতিয়ে দেখছে। তবে গভীরতা কম (১০ কিমি) হওয়া সত্ত্বেও সমুদ্রের ভেতরে হওয়ায় বড় ধরনের কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ইউএসজিএস-এর উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান: সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যা বৈশ্বিক ভূতাত্ত্বিকদের চিন্তায় ফেলেছে। ইউএসজিএস-এর সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক উপাত্ত অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিশ্বজুড়ে ৪ দশমিক ৫ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার রেকর্ড ৯৩টি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। এটি বিশ্বব্যাপী টেকটোনিক প্লেটের তীব্র নাড়াচাড়া ও সক্রিয়তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এরই মধ্যে সম্প্রতি লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক নজিরবিহীন ও প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সেখানে প্রথমে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং তার মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর একই অঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি দানবীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানের ভাষায় একই সময়ে ও কাছাকাছি স্থানে প্রায় সমমাত্রার দুটি বড় ভূমিকম্প হওয়াকে ‘ডাবলেট’ (Doublet) বলা হয়। এই ডাবলেটের কারণে ভেনেজুয়েলায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
মেক্সিকোর এই ভূমিকম্পের পাশাপাশি একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়াতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ভ্যালির কাছে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএস জানায়, এর কেন্দ্রস্থল ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার মেনডোসিনো কাউন্টিতে এবং এটি ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৫ মাইল নিচে উৎপন্ন হয়েছিল। মেক্সিকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার এই জোড়া কম্পন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ (Ring of Fire) অঞ্চলের অস্থিরতাকেই পুনরায় প্রমাণ করছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতা: রিখটার স্কেলে মেক্সিকোর এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.০।
সময় ও স্থান: মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে এই আঘাত হানে।
উৎপত্তিস্থল: এল প্রোগ্রেসো থেকে ৭৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিমি গভীরে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র: উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়ালেও কোনো হতাহত বা সুনামির খবর নেই।
বৈশ্বিক প্রবণতা: মাত্র এক সপ্তাহে বিশ্বে ৪.৫ মাত্রার বেশি ৯৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে ইউএসজিএস।
স্টাফ রিপোর্টার | আন্তর্জাতিক ও পরিবেশ বিপর্যয় বিভাগ
মেক্সিকোর ক্যালিফোর্নিয়া উপকূল এবং বাহা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের সর্বশেষ পরিস্থিতি, প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (PTWC) নতুন আবহাওয়া বার্তা, ভেনেজুয়েলার ‘ডাবলেট’ ভূমিকম্পের সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |