আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানে নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। দেশটির রাজধানীতে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় জানাজায় উপস্থিত কয়েক লাখ শোকাহত মানুষের বিশাল ভিড় থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার সরাসরি দাবি উঠেছে।
আজ রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া ৪২ বছর বয়সি ইরানি নার্স জিবা নাদেরি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, "নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখন যে নির্দেশ দেবেন, সমস্ত ইরানিদের ঠিক তা-ই অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা উচিত।" তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আরও বলেন, "আমি সমবেত জনতার কণ্ঠ থেকে প্রতিশোধের তীব্র ডাক শুনেছি, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের ঠিক কী করতে হবে তা আমাদের নতুন নেতারই স্পষ্ট করে বলা উচিত এবং আমাদের অবশ্যই তার হুকুম শুনতে হবে।"
এদিকে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা এবং এর চারপাশের প্রধান সড়কগুলোতে সাঁটানো বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার এবং দেয়াললিখনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার সরাসরি আহ্বান জানানো হয়। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর এটিই ইরানের মাটিতে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
আজ জানাজার মূল নামাজের আগে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ইরানের খ্যাতনামা কবি মোহাম্মদ রাসৌলি। তিনি লাউডস্পিকারে মোসাল্লায় সমবেত লাখ লাখ জনতার উদ্দেশ্যে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ বলে তীব্র স্লোগান তোলেন।
একপর্যায়ে লাউডস্পিকারে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নাম ও কথা উল্লেখ করে কবি রাসৌলি প্রশ্ন করেন— “বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি (ডোনাল্ড ট্রাম্প) এখনও বেঁচে আছে কেন?” তার এই আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক প্রশ্নে উপস্থিত কয়েক লাখ শোকাহত ইরানি জনতা তুমুল উল্লাসে ও প্রতিশোধের গর্জনে ফেটে পড়ে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি প্রথম কোনো গণজমায়েত, যেখানে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার স্লোগান দেওয়া হলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
মূল ঘটনা: খামেনির জানাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার দাবি ইরানি জনতার।
নেতৃত্বের নির্দেশ: নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিশোধের নির্দেশের অপেক্ষায় সাধারণ ইরানিরা।
মোসাল্লার চিত্র: ব্যানার ও পোস্টারে ট্রাম্পের পাশাপাশি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার ডাক।
উত্তেজক স্লোগান: জানাজার মঞ্চ থেকে কবি রাসৌলি প্রশ্ন করেন— সবচেয়ে জঘন্য মানুষ ট্রাম্প এখনও বেঁচে কেন?
কূটনৈতিক ঝুঁকি: এই ধরনের প্রকাশ্য হত্যার হুমকি মার্কিন-ইরান সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক সামরিক কৌশল বিভাগ
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রথম সামরিক ডিক্রি ও ভাষণের লাইভ আপডেট, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের তালিকা, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |