কলকাতা ব্যুরো | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও চরম হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে গেল কলকাতার কালীঘাটে। বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তৃণমূলের মিছিলে বিজেপি কর্মীদের হামলা ও ধাক্কাধাক্কির জেরে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। আর এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে এক ব্যক্তিকে সপাটে চড় মারলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই চড় মারার দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কাকে চড় মেরেছেন, তাঁর পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
বারুইপুরে কিশোরী ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার (৮ জুলাই) কালীঘাট তৃণমূলের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। আদালতের স্পষ্ট অনুমতি নিয়ে মিছিলটি বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হয়ে হাজরা মোড় পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পথ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এবং উসকানিমূলক স্লোগান দেয়। পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরাও। মুহূর্তের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল ধাক্কাধাক্কি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দৃশ্যে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে গাড়ির ওপর ফেলে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে।
নিজের বাড়ির দোরগোড়ায় এমন সংঘর্ষ ও উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় হরিশ চ্যাটার্জি সড়কের বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে মমতার একদম সামনে এগিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে হঠাৎ একজনকে সপাটে চড় মেরে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এই নজিরবিহীন ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আদালতের স্পষ্ট অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিলকে গায়ের জোরে আটকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি ছিল পুরোপুরি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর দলের কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ চালানো হয়েছে। এমনকি তাঁর বাড়ির সামনেও বিরোধী দলের সমর্থকেরা জড়ো হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার কারণে তিনি এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং ‘আদালত অবমাননা’র (Contempt of Court) মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মমতার চড় মারার ঘটনার কড়া সমালোচনা করে দলটির বর্ষীয়ান নেতা ও সংসদ সদস্য সুকান্ত মজুমদার বলেন,
"ক্ষমতা হারানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। আর সেই কারণেই প্রকাশ্য রাস্তায় তিনি এমন অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করছেন।"
ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও মমতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে সবার শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করার অধিকার রয়েছে। তৃণমূল এখন সম্পূর্ণ জনসমর্থন হারিয়ে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। আর সেই দেউলিয়াত্ব ঢাকতেই বিরোধীদের ওপর দোষ চাপিয়ে এই ধরনের ঘটনার মাধ্যমে নতুন নাটক ও বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে তারা।
বারুইপুরের নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক সংঘাত এখন কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট হয়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে তৃণমূল যখন গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের অভিযোগে সোচ্চার, অন্যদিকে বিজেপি তখন মমতার এই ‘চড় কাণ্ড’কে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে।
নজিরবিহীন ঘটনা: নিজের বাড়ির সামনেই এক ব্যক্তিকে সপাটে চড় মারলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংঘর্ষের সূত্রপাত: বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে তৃণমূলের মিছিলে বিজেপি হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।
রণক্ষেত্র কালীঘাট: বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড়ের মিছিলে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা।
মমতার হুঁশিয়ারি: আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মিছিল আটকানোয় আদালত অবমাননার মামলার ঘোষণা মমতার।
বিজেপির পাল্টা তোপ: ক্ষমতা হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন বলে দাবি সুকান্ত মজুমদারের।
কলকাতা ব্যুরো | পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি ২০২৬, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চড় কাণ্ড ও বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত সেল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চড় খাওয়া সেই রহস্যময় ব্যক্তির আসল পরিচয়, লালবাজার পুলিশের পক্ষ থেকে এই সংঘর্ষের ঘটনায় কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার তালিকা এবং এই নজিরবিহীন চড় কাণ্ডের পর কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূলের মামলা দায়েরের প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |