আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচি আসার পথে পাঁচজন ক্রুসহ পাকিস্তানের একটি মালবাহী (কার্গো) বিমান নিখোঁজ হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে করাচির এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে ‘কেটু এয়ারওয়েজ’-এর বোয়িং ৭৩৭-৪০০ মডেলের কার্গো বিমানটির সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ বিমান ও ক্রুদের সন্ধানে আরব সাগরে ইতিমধ্যেই সমন্বিত ও বড় ধরনের তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ)।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাডার থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৮ মিনিটে বিমানটির পাইলট তাঁদের দিকনির্ণয় ব্যবস্থায় (নেভিগেশনাল সিস্টেম) মারাত্মক ত্রুটি দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এর জবাবে করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার (এসিসি) তাৎক্ষণিকভাবে বিমানটিকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেও, মাত্র তিন মিনিট পরেই রাডার থেকে বিমানটি সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানটি করাচি উপকূল থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের ওপর অবস্থান করছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাডার থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগে বিমানটির উচ্চতায় চরম ও অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।
প্রথম ধাক্কা: শেষ মুহূর্তে বিমানটি মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে আকাশ থেকে প্রায় ৫০০০ ফুট নিচে নেমে যায়।
দ্বিতীয় ঝাঁকুনি: এর ঠিক ৩০ সেকেন্ড পর এটি আবার অস্বাভাবিকভাবে ৬০০০ ফুট ওপরে উঠেছিল।
খাড়া পতন: শেষ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৫৫০ ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি একবারে খাড়া নিচের দিকে আছড়ে পড়তে শুরু করে।
রেডারে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যখন মাত্র ১১০০ ফুট ওপরে ছিল, তখন সেটি প্রতি মিনিটে ২২৪০০ ফুট (ঘণ্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার) অবিশ্বাস্য গতিতে খাড়া নিচের দিকে নামছিল।
ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়া এপি-বিওআই (AP-BOI) নিবন্ধিত উড়োজাহাজটি হচ্ছে মূলত বোয়িং ৭৩৭-৪এম০ (বিডিএসএফ) মডেলের একটি বিমান, যা অতি সম্প্রতি অর্থাৎ ২০২৪ সালে কে২ এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়েছিল।
এই উড়োজাহাজটির একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এটি মূলত ১৯৯৯ সালে একটি যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে রাশিয়ার ‘অ্যারোফ্লট’-এ যুক্ত হয়েছিল। এরপর ২০০৪ সালে এটি ‘গারুডা ইন্দোনেশিয়া’র বহরে যুক্ত হয়। দীর্ঘ এক দশক যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে সেবা দেওয়ার পর, ২০১২ সালে এটিকে রূপান্তরিত করে মালবাহী (কার্গো) উড়োজাহাজে পরিণত করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি বিশ্বখ্যাত ‘টিএনটি এয়ারওয়েজ’ ও ‘এএসএল এয়ারলাইন্স’-এর মাধ্যমেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল।
আরব সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে বিমানটির সন্ধানে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনা: শারজাহ থেকে করাচি আসার পথে পাকিস্তানের কেটু এয়ারওয়েজের কার্গো বিমান নিখোঁজ।
ক্রু সংখ্যা: বিমানটিতে নিখোঁজের সময় মোট ৫ জন ক্রু ছিলেন।
সর্বশেষ লোকেশন: করাচি উপকূল থেকে ২৮৭ কিমি পশ্চিমে আরব সাগরের ওপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
পাইলটের বার্তা: শেষ মুহূর্তে পাইলট নেভিগেশনাল সিস্টেম বা দিকনির্ণয় ব্যবস্থার ত্রুটির কথা জানান।
ভয়াবহ পতন: রাডারের তথ্য মতে, শেষ মুহূর্তে বিমানটি ঘণ্টায় ৪০০ কিমি গতিতে সাগরে আছড়ে পড়ছিল।।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিমান দুর্ঘটনা, বৈশ্বিক কার্গো ও পাকিস্তান এভিয়েশন সেল
আরব সাগরে পাকিস্তান নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের যৌথ তল্লাশিতে নিখোঁজ বোয়িং ৭৩৭ বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ বা ক্রুদের সন্ধান মিলল কিনা, কেটু এয়ারওয়েজের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা ও বিবৃতি জারি করা হয়েছে কিনা এবং করাচি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ব্ল্যাক বক্স রেকর্ডিংয়ের সবশেষ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |