আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাধর রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির পরবর্তী নেতা এবং দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আরও এক ঐতিহাসিক ধাপ এগিয়ে গেলেন অ্যান্ডি বার্নহাম। দলের সিংহভাগ আইনপ্রণেতা (এমপি) তাকে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেছেন। প্রথম দফার মনোনয়ন গণনায় ৪০৩ জন লেবার এমপির মধ্যে রেকর্ড ৩২২ জনই বার্নহামের প্রতি তাঁদের প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে দাঁড়ানোর বা কোটা পূরণের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বার্নহামের এখন আর মাত্র একজন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৩২৩টি মনোনয়নের চেয়ে মাত্র একটি ভোট দূরে আছেন। বেশ কয়েকজন লেবার এমপি জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পার্লামেন্টে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আগামী সোমবার হাউজ অব কমন্সে ফিরেই তাঁরা বার্নহামকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়ে দেবেন।
প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন কোনো হেভিওয়েট প্রার্থী এই প্রতিযোগিতায় শেষ মুহূর্তে অংশ না নিলে আগামী সপ্তাহেই অ্যান্ডি বার্নহামকে লেবার পার্টির প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং আগামী ২০ জুলাই তিনি ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করবেন।
কয়েক সপ্তাহ আগে মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় পার্লামেন্টে আসা ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়রের জন্য এটি একটি অসাধারণ এবং অলৌকিক রাজনৈতিক উত্থান। এক বিশেষ বিবৃতিতে বার্নহাম তাঁর ওপর অভূতপূর্ব আস্থা রাখার জন্য লেবার এমপিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন:
“দলের সব স্তরের মানুষের কাছ থেকে আসা এই ব্যাপক সমর্থন প্রমাণ করে যে, ব্রিটেনের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এখন একটি সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু শুধু ওয়েস্টমিনস্টার বা লন্ডনে আটকে না রেখে সাধারণ মানুষের হাতে দিতে হবে এবং প্রতিটি অঞ্চলে সমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।”
গত মে মাসে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির চরম বিপর্যয় এবং এর বিপরীতে মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে বার্নহামের বিশাল জয়ের পর কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে তীব্র প্রশ্ন ওঠে। দলের ভেতর থেকেই তাকে সম্মানজনকভাবে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। অবশেষে বার্নহাম এমপি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার দিনই স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
নতুন নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে যেকোনো প্রার্থীকে আগামী সপ্তাহের বুধবারের মধ্যে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। বার্নহাম ৩২৩ জন এমপির সমর্থন পেয়ে গেলে অন্য কারও পক্ষে এই ন্যূনতম কোটা পূরণ করা গাণিতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০১০ এবং ২০১৫ সালের লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়া বার্নহাম এবার প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পা রাখতে যাচ্ছেন। সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আল কার্নস এই শীর্ষ দৌড় থেকে নিজেকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে নেওয়ায় বার্নহামের পথ আরও মসৃণ হয়।
তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দলের ভেতরের একটি অংশ তাঁর ভবিষ্যৎ নীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিস্তারিত প্রকাশের দাবি তুলেছেন। ২০১৭ সালে ওয়েস্টমিনস্টার ছাড়ার পর দীর্ঘ বিরতির কারণে বর্তমানের নতুন এমপিদের অনেকের সাথেই তাঁর ব্যক্তিগত গভীর সংযোগ নেই, যা দেশ পরিচালনায় তাঁর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) এমপিদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করবেন বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ সরকারের কিছু বৈপ্লবিক রূপরেখা দিয়েছেন বার্নহাম। তিনি ম্যানচেস্টারে একটি নতুন ‘নম্বর ১০’ (উইন্ডো ১০) আঞ্চলিক ইউনিট খোলার প্রস্তাব করেছেন, যা আবাসন ও পরিবহনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে স্থানীয় সরকারকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন ও নিয়ন্ত্রণ দেবে। পাশাপাশি পানি ও জ্বালানি খাতকে সম্পূর্ণভাবে জনগণের নিয়ন্ত্রণে (জাতীয়করণ) আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— গাজা যুদ্ধ নিয়ে কিয়ার স্টারমারের আমলে লেবার পার্টির প্রাথমিক পক্ষপাতমূলক অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে ও ভোটারদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা খাতে টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বার্নহামের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি ব্রিটেনের একজন অত্যন্ত দক্ষ প্রধানমন্ত্রী হবেন।
প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বার্নহাম: কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম।
৩২২ এমপির রায়: লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে প্রথম দফাতেই ৩২২ জন এমপি বার্নহামকে সমর্থন দিয়েছেন।
২০ জুলাই শপথ: প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আগামী ২০ জুলাই ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করবেন তিনি।
গাজা নীতিতে ক্ষমা: কিয়ার স্টারমারের আমলের বিতর্কিত গাজা নীতি ও অবস্থানের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন বার্নহাম।
ঐতিহাসিক উত্থান: ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহাম কয়েক সপ্তাহ আগে উপ-নির্বাচনে জিতেই লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা বনে গেলেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী ২০২৬, অ্যান্ডি বার্নহাম লেবার পার্টি, কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ ও ডাউনিং স্ট্রিট ১০ নম্বর সেল
অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গাজা ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র নীতিতে কী কী বড় পরিবর্তন আসতে পারে, ডাউনিং স্ট্রিটের নতুন মন্ত্রিসভায় কারা জায়গা পাচ্ছেন এবং যুক্তরাজ্যের রাজনীতির প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |