ঢাকায় বিএনপির ২০ আসনের মধ্যে ৭টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি: বিতর্কিত আসনগুলোর দিকে নজর
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে জোট এবং যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দলগুলোর আস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে কিছু আসনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা পারিবারিক ‘নীতি’র কারণে এই মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুব শিগগিরই বাকি আসনগুলোর মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে। এছাড়া, বিতর্কিত আসনগুলোর মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। চলুন, দেখে নেয়া যাক ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আসনের প্রার্থী পরিস্থিতি।
ঢাকা-১৭ আসনটি জামায়াত ও বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান (পার্থ)-কে দেয়া হতে পারে। পার্থ ইতিমধ্যে তার নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে প্রার্থিতা জানিয়ে দিয়েছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন যেখানে বিএনপি তাদের জোট শরিকদেরকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
এই আসনটি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে দেয়া হতে পারে। তিনি নিজেও ইতিমধ্যেই তার নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে প্রচার শুরু করেছেন। এখানে বিএনপি তাদের জোট শরিকদের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব প্রদর্শন করছে।
এই আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে দেয়া হতে পারে, তবে তার সম্মতি এখনও পাওয়া যায়নি। যদি মামুনুল হক প্রার্থী হতে সম্মতি দেন, তাহলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে।
এই আসনে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস মনোনয়ন প্রত্যাশী, তবে 'এক পরিবার এক প্রার্থী' নীতি অনুযায়ী তার স্বামী মির্জা আব্বাসকে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। এই নীতি শিথিল হলে তিনি মনোনয়ন পেতে পারেন। বিকল্প হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তাসনিম জারাকে সমর্থন দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।
ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম (রবি) মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা করছেন। নাসির উদ্দিন আহমেদ নোয়াখালী অঞ্চলের ভোটারদের সংখ্যাধিক্যকে দলীয় বিবেচনার বিষয় বলে মনে করছেন।
ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন এবং যুবদলের ঢাকা জেলা সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস (মুরাদ) এগিয়ে আছেন। এই আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা এখনও বাকি, তবে দলের নেতারা শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।
এই আসনে জোটের শরিক অথবা দলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনও দ্বিধা রয়েছে। ২০২০ সালের উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অন্য তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী—মোস্তাফিজুর রহমান (সেগুন), এম কফিল উদ্দিন এবং মোস্তফা জামান—একজোট হয়ে মীর মাহবুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ)কে প্রার্থী করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ঢাকা-১২ আসনে প্রার্থী সাইফুল আলম (নীরব)-এর বিরুদ্ধে মনোনয়নপ্রত্যাশী আনোয়ারুজ্জামানের অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এবং প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
কাফরুল এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে শফিকুল ইসলাম খানকে (মিলটন) প্রার্থী করায় দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পরিবর্তনের অভিযোগ জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে চলমান বিতর্ক এবং কোন্দল এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তবে, শিগগিরই দলীয় নেতারা এসব আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন এবং কিছু বিতর্কিত আসনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতে, কিছু আসনে আসন্ন সিদ্ধান্ত বদলের মাধ্যমে দল আরও শক্তিশালী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |