আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আনাদলু এজেন্সি
সর্বশেষ আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত মাসে পরপর আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ও প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সরকারি সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন ৪ হাজার ৫৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ হাজার ৭৪০ জন।
সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ দেশজুড়ে চলমান উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া বিপন্ন মানুষের জরুরি বাসস্থানের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দেশজুড়ে ১০৭টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করেছে প্রশাসন।
বর্তমানে এই অস্থায়ী শিবিরগুলোতে ২০ হাজার ২৩১ জন মানুষ অবস্থান করছেন। তবে সরকারি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে এখনো ১৭ হাজার ৯০৭ জন মানুষ কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী আবাসন সুবিধা ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে অথবা অনিরাপদ স্থানে দিনাতিপাত করছেন।
রদ্রিগেজ ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরে জানান, শক্তিশালী এই ভূকম্পনে পুরো ভেনেজুয়েলার প্রায় ৮৫৬টি বড় বড় ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। যার ফলে দেশটির প্রধান শহরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ লাইনে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
📊 ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প ২০২৬ (এক নজরে ক্ষয়ক্ষতি):
• মোট নিহতের সংখ্যা: ৪,৫৬১ জন
• মোট আহতের সংখ্যা: ১৬,৭৪০ জন
• ক্ষতিগ্রস্ত ভবন: ৮৫৬টি (সম্পূর্ণ ধসে গেছে ১৯০টি)
• খোলা আশ্রয়শিবির: ১০৭টি (আশ্রিত ২০,২৩১ জন)
• সাহায্যপ্রাপ্ত পরিবার: ১,২৮,৩২৪টি
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন (২০২৬) ভেনেজুয়েলার মাটির গভীরে পরপর দুটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই আঘাত হানা দ্বিতীয় ভূকম্পনটির তীব্রতা রেকর্ড করা হয় ৭.৫। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী কম্পন হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
ভূমিকম্পের পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে সেনাবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক হিসাব নিরূপণে কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই একটি জাতীয় পুনর্গঠন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলা প্রশাসন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |