ক্রীড়া ও বিশ্বকাপ ডেস্ক | এনডিটিভি
সর্বশেষ আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ২০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো আবারও নকআউট মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের ফুটবল ইতিহাসের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি— স্পেন ও ফ্রান্স। ফাইনালে ওঠার এই মহালড়াইতে কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তিমত্তার ব্যবধান খুবই সামান্য হলেও, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই, ২০২৬) রাতের এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের বাঁশি বাজার আগেই মাঠের বাইরে দুই শিবিরের ‘মাইন্ড গেম’ বা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দুই দলের খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকেই ম্যাচ নিয়ে প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং ফেভারিট কারা—তা নিয়ে গণমাধ্যমে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য আসছে। ফরাসি হেড কোচ দিদিয়ের দেশম ইতোমধ্যে চলতি আসরে অপরাজিত থাকা বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে সেমিফাইনালের হট ‘ফেভারিট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিজেদের ওপর থেকে চাপ কমাতে চেয়েছেন। অন্যদিকে, স্পেনের তরুণ তুর্কিরা বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপ্পের মুখোমুখি হতে কোমর বেঁধে নেমেছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে মাত্র একবারই এই দুই পরাশক্তি মুখোমুখি হয়েছিল। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের সেই শেষ ষোলোর ম্যাচে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেনকে। তবে সাম্প্রতিক অতীত পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ কথা বলছে স্প্যানিশদের পক্ষে।
ইউরো ২০২৪ (সেমিফাইনাল): ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেন।
উয়েফা নেশনস লিগ ২০২৫ (সেমিফাইনাল): ফ্রান্সকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্প্যানিশরা।
বিশ্বকাপ ২০২৬ (সেমিফাইনাল): এবার বৈশ্বিক মঞ্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে টানা জয়ের হ্যাটট্রিক করতে মরিয়া লা রোহারা।
ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে স্পেনের ১৯ বছর বয়সি বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল সংবাদমাধ্যমে নিজের চরম আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “গত দুটি বড় ম্যাচে আমরা ফ্রান্সকে হারিয়েছি। তাই ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায়, তবে সেটা আমাদেরই পাওয়া উচিত। মাঠে কী হয় দেখা যাবে, তবে আমরা মোটেও ভীত নই।”
আক্রমণভাগে ইয়ামালের প্রধান সতীর্থ নিকো উইলিয়ামসও স্প্যানিশ জনপ্রিয় ক্রীড়া মাধ্যম ‘এল চিরিংগিতো’ (El Chiringuito)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একই সুর মিলিয়ে বলেন, “আমাদের ফরাসিদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, মোটেও না। এই দলটিকে টানা দুবার হারিয়ে আমরা ইতোমধ্যে আমাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। এটা আমাদের অহংকার নয়, বরং আমাদের আত্মবিশ্বাস এবং কিছুটা আত্মসম্মান।”
🔥 স্প্যানিশ শিবিরের মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ:
• লামিন ইয়ামাল: “ফ্রান্স আমাদের ভয় পাবে, আমরা মোটেও ভীত নই।”
• নিকো উইলিয়ামস: “ফ্রান্সকে দুবার হারিয়ে আমরা যোগ্যতা প্রমাণ করেছি।”
• পাউ কুবারসি: “এমবাপ্পে আমাদের মনে ভয় ধরাতে পারে না।”
চলতি বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে স্পেনের রক্ষণের তরুণ সেনানি পাউ কুবারসি সরাসরি বলেন, “সে আমাকে ভয় ধরাতে পারে না। তবে সবাই তার বিশ্বমানের গুণ সম্পর্কে জানে। সে ম্যাচে অনেকাংশ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে একাই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। লামিনের মতোই সে অনন্য। তার বিরুদ্ধে পুরো ৯০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।”
স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের এই একের পর এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও প্রচ্ছন্ন উসকানিকে ফ্রান্সের তারকা সেন্টারব্যাক ইব্রাহিমা কোনাতে একটি ‘মাইন্ড গেমের ফাঁদ’ হিসেবে দেখছেন, যে ফাঁদে পা দিয়ে তারা মাঠের মনোযোগ নষ্ট করতে চান না।
স্প্যানিশ ফুটবলারদের কথার জবাবে কোনাতে অত্যন্ত শান্ত ও দৃঢ়ভাবে বলেন:
“না, না... সত্যি বলতে, বাইরে কে কী বলছে তা নিয়ে আমরা ড্রেসিংরুমে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাচ্ছি না। আমাদের আলাদা করে কাউকে ভয় পাওয়ার বা অতি-উৎসাহী হওয়ার দরকার নেই। প্রতিযোগিতার এই সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমাদের শান্ত ও বিনয়ী থাকতে হবে এবং এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। তারা যা খুশি বলতে পারে। আমরা মাঠে আমাদের সেরা কৌশলগত প্রস্তুতি নেব এবং ম্যাচ শেষে ৯০ বা ১২০ মিনিটের লড়াইয়েই দেখা যাবে শেষ হাসি কে হাসে।”
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |