লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জুলাই, ২০২৬
স্বর্ণের গয়না শুধু চমৎকার সাজসজ্জার অনুষঙ্গই নয়; এটি অনেকের কাছে ভালোবাসার স্মৃতি, গভীর আবেগ এবং অত্যন্ত মূল্যবান এক সম্পদের প্রতীক। আর এই আবেগের কারণেই অনেকে গলায় সোনার চেইন, হাতে বালা বা চুড়ি, আঙুলে আংটি কিংবা কানে দুল সারাক্ষণ পরে থাকেন। এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়ও এসব গয়না খুলে রাখার কথা অনেকের মাথাতেই আসে না।
অথচ বিশ্বখ্যাত জুয়েলারি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে গয়না খুলে রাখার অভ্যাস আপনার ত্বক, সার্বিক শরীর এবং প্রিয় গয়নার দীর্ঘস্থায়িত্ব—সবকিছুর জন্যই অত্যন্ত উপকারী। কেন আজ রাত থেকেই এই অভ্যাস আপনার গড়ে তোলা উচিত, চলুন বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক।
ঘুমের সময় আমরা অজান্তেই রাতে বারবার পাশ ফিরি বা হাত-পা নাড়াচাড়া করি। এ সময় শরীরের ওজনের নিচে চাপা পড়ে আংটি, চেইন, কানের দুল বা বালা ত্বকের সঙ্গে তীব্র ঘর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমনটি চলতে থাকলে ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি, অ্যালার্জি, তীব্র জ্বালাপোড়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল (Sensitive Skin), তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা চামড়ার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
দিনভর বাড়ির বাইরে ও ভেতরে গয়না পরে থাকার ফলে অলংকারের সূক্ষ্ম খাঁজে খাঁজে ঘাম, ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (সিবাম), ধুলোবালি এবং মৃত কোষ বা ডেড স্কিন সেল জমে যায়। রাতেও একই গয়না পরে ঘুমালে সেই দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্র পরিবেশে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক (Fungus) দ্রুত বংশবৃদ্ধি করার আদর্শ সুযোগ পায়। বিশেষ করে গরম কিংবা বর্ষাকালে এ ধরনের ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
⚠️ রাতে গয়না পরে ঘুমানোর প্রধান ক্ষতিকর দিকসমূহ:
• ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন: ঘাম ও ময়লা জমে ত্বকে ফাঙ্গাস ও চুলকানির সৃষ্টি করে।
• অলংকারের ক্ষতি: সুতির চাদর বা পোশাকের ঘর্ষণে স্বর্ণের উজ্জ্বলতা (Shine) কমে যায়।
• কানের লতি ছিঁড়ে যাওয়া: চাদর বা বালিশের কাভারে বড় কানের দুল আটকে কানের লতি আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে।
• আঙুল ফুলে যাওয়া: রক্ত চলাচলে সাময়িক বাধা সৃষ্টি হয়ে আঙুল নীল বা ফুলে যেতে পারে।
ঘুমানোর সময় খসখসে বালিশের কাভার, চাদর কিংবা পোশাকের সঙ্গে অনবরত ঘর্ষণের কারণে স্বর্ণের নরম ধাতুর ওপর অত্যন্ত সূক্ষ্ম আঁচড় বা স্ক্র্যাচ পড়তে পারে। ফলে ধীরে ধীরে গয়নার স্বাভাবিক সোনালী উজ্জ্বলতা মলিন হয়ে যায়। আর যদি আপনার গয়নাটি ডায়মন্ড বা অন্য কোনো মূল্যবান পাথর বসানো (Stone-setting) হয়, তবে ঘুমের সময় বারবার চাপের কারণে সেটিং আলগা হয়ে যেকোনো সময় পাথরটি খুলে বিছানায় হারিয়ে যেতে পারে।
অনেক সময় অসাবধানতাবশত ঘুমের মধ্যে গলার চেইন নিজের চুল বা বালিশের কোনার সঙ্গে আটকে যেতে পারে। এতে দামি চেইনটি বেঁকে যাওয়া, লিংক ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা পেছনের লকটির ক্ষতি হওয়ার ১০০% আশঙ্কা থাকে। একইভাবে কানের বড় রিং বা ঝুলন্ত দুল বালিশের সঙ্গে আটকে গিয়ে কানের নরম লতি ছিঁড়ে এক রক্তাক্ত ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, রাতে ঘুমানোর সময় মানুষের হাত ও পায়ের আঙুলগুলো প্রাকৃতিকভাবেই সামান্য ফুলে বা ভারী হয়ে যায়। এই অবস্থায় আঙুলে থাকা আংটিটি আরও আঁটসাঁট বা টাইট হয়ে যায়, যা আঙুলের রক্ত চলাচলে (Blood Circulation) সাময়িক বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আঙুল অবশ হয়ে থাকা, ফুলে যাওয়া বা আঙুল থেকে আংটি খুলতে চরম কষ্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়ে থাকে।
আপনার ঘরে যদি ছোট শিশু বা প্রিয় পোষা প্রাণী (Pet) থাকে, তবে ঘুমের গভীর মুহূর্তে তাদের নড়াচড়ার সময় গলার চেইনে বা হাতের ব্রেসলেটে টান লেগে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া চেইন পেঁচিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধের মতো মারাত্মক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
সোনার গয়নার জন্য নির্দিষ্ট বক্স: প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে একটি নির্দিষ্ট ভেলভেট বা নরম সুতির কাপড়ের পাউচে (Jewelry Pouch) গয়নাগুলো আলাদা আলাদা করে গুছিয়ে রাখুন।
নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার: সপ্তাহে অন্তত একবার নরম ও শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে গয়নার ঘাম ও তেল মুছে ফেলুন।
সেটিং পরীক্ষা: বিশেষ করে পাথর বসানো অলংকার হলে, বছরে অন্তত একবার বিশ্বস্ত জুয়েলারি শপে নিয়ে সেটিং ও লকের স্প্রিং ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করিয়ে নিন।
বিশেষ নোট: স্বর্ণের গয়না কেবল একটি অলংকারই নয়, এটি আপনার রুচি ও আভিজাত্যের প্রতীক। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড ব্যয় করে গয়না খুলে রাখার এই অতি সাধারণ অভ্যাসটি আপনার ত্বককে রাখবে সতেজ ও সুস্থ এবং আপনার প্রিয় অলংকারকে রাখবে নতুনের মতো উজ্জ্বল। (তথ্যসূত্র: জুয়েলার্স অব আমেরিকা, এলিগানজিয়া জুয়েলারি এবং আন্তর্জাতিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ফোরাম)
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |